📌 বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯টি নতুন ক্ষমতা চায়, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্বপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এটি আগের সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের চেষ্টার পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯টি নতুন ক্ষমতা চায়, যা সাংবাদিকদের নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিকর বা জনস্বার্থ ক্ষুণ্নকারী সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায়। এছাড়াও, গুজব, ভুয়া খবর বা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে নিজস্ব তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় তারা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেস কাউন্সিলের দেওয়া প্রতিবেদনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯টি নতুন ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল**: সাংবাদিক নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, অনলাইন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, আচরণবিধি প্রণয়ন, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বপ্রণোদিত তদন্তের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- 📌 **স্বাধীন সাংবাদিকতার বিপরীতে উদ্যোগ**: সাংবাদিক সমাজের মতে, এই প্রস্তাব আগের সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের চেষ্টার পুনরাবৃত্তি।
- 📌 **১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রস্তাব**: আগের সরকারের আমলে প্রস্তাবিত ছিল ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়।
- 📌 **১৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব**: তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪টি প্রতিষ্ঠান সাংসদীয় কমিটিতে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে প্রেস কাউন্সিলের প্রস্তাব অন্যতম।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব) মো. আবদুস সবুরের সই করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধের জন্য ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য আইনে ১৯টি নতুন ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ প্রদান, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে কাউন্সিলের আওতায় আনা, সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি করা, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা ও হামলার ঘটনায় তদন্ত এবং সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাংবাদিক সমাজের মতে, এই প্রস্তাব আগের সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি। ২০২২ সালের জুনে সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইন সংশোধন করা হয়নি। তখনও অর্থদণ্ডের বিধান এবং স্বপ্রণোদিতভাবে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রথমে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের সময় টাকার পরিমাণ বাদ দেওয়া হয়।
নোয়াবের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত সংশোধনী অস্পষ্ট এবং তাই অপব্যবহারের সুযোগ আছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হানিকর বা অবমাননাকর বিষয়টি বলা হয়েছে; কিন্তু এর সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।’
"বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধের জন্য ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সাংসদীয় স্থায়ী কমিটি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুস সবুর (প্রেস কাউন্সিলের সচিব), নোয়াবের প্রতিনিধি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯টি ক্ষমতা, ১৪টি প্রতিষ্ঠান, ১০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!