📌 মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সমালোচিত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দু’বার আলোচনা করেন। তিনি জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ নেই এবং বিরোধীদলীয় নেতারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সমালোচিত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬) প্রধানমন্ত্রীর সাথে পদত্যাগের পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে দুপুরে ডেকেছিলেন এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় পর্যন্ত আলোচনা চলতে থাকলেও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবার আলাপ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২ ঘণ্টার মধ্যে দু’বার আলোচনা**: প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রথমে ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় ডেকে পাঠান, পরে আবার আলাপের জন্য ডেকে নেন।
- 📌 **পদত্যাগের সিদ্ধান্ত**: ইশরাক বলেন, দলের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ নেই; মিডিয়া সিন্ডিকেটের প্রচারকে দায়ী করেন।
- 📌 **বিরোধীদলীয় সমর্থন**: বিরোধীদলীয় নেতারা ইশরাককে সরাসরি ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন।
- 📌 **গেন্ডারিয়া ঘটনা**: ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ইশরাক।
- 📌 **৯ মাসের মন্ত্রিসভায়**: ইশরাক শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাস পর পদত্যাগ করেন।
📰 বিস্তারিত
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সমালোচিত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬) প্রধানমন্ত্রীর সাথে পদত্যাগের পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় পর্যন্ত আলোচনা চলতে থাকলেও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবার আলাপ হয়। ইশরাক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। আমি আর তার সঙ্গে যাইনি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। পরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার ক্যাবিনেটে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। আমি সেখানে বসে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে অংশ নিই এবং আমরা মিটিংটি সম্পন্ন করি। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা আবার তার অফিসে যাই এবং সেখানে কথা বলি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।”
পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য পদত্যাগ করুক। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।”
বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আপনার যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব।’ এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেছেন, ‘আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।’ এ ধরনের কথা অনেকে বলেছেন।”
গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ইশরাক জানান, “শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে আমার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।”
"দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য পদত্যাগ করুক। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ক্যাবিনেট মিটিং, প্রধানমন্ত্রীর অফিস), গেন্ডারিয়া (৪৫ নম্বর ওয়ার্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইশরাক হোসেন (প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা-৬), প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ ঘণ্টা (আলোচনার সময়সীমা), ৬ (ঢাকা আসন), ৪৫ (ওয়ার্ড নম্বর), ১৭ (অক্টোবর), ৯ (মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!