📌 রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তাকে 'স্বৈরাচারের দোসর' বলে পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টার লাগানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কৃষি খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তিন কর্মকর্তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলে আবার পোস্টার লাগানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) খামারবাড়ি এলাকার কেআইবির সামনে এবং মেট্রোরেলের পিলারে এ পোস্টারগুলো লাগানো হয়। পোস্টার লাগানোর ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলে পোস্টার লাগানো হয়েছে।
- 📌 পোস্টারে তালহা জুবায়ের মাশরুর, সাখাওয়াত হোসেন ও মুরাদুল হাসানকে ‘কৃষি খাতের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 পোস্টার লাগানোর পর ডিএই’র কর্মচারীদের ধাওয়া দেয় কৃষিবিদ সংগঠনের অনুসারী।
- 📌 পোস্টারে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিযোগ উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ডিএই।
- 📌 মুরাদুল হাসান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে পোস্টারে তোলা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
📰 বিস্তারিত
খামারবাড়ি এলাকায় আজ সোমবার ভোরে পোস্টারগুলো লাগানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএই’র কর্মচারীরা পোস্টারগুলো নামাতে গেলে কৃষিবিদ সংগঠন ‘এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (এ্যাব) এর নেতা শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের অনুসারীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের সদস্যসচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পোস্টারে তালহা জুবায়ের মাশরুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট শান্তি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ও অর্থদাতা ছিলেন। এছাড়াও, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন ফেসবুকে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি কখনোই ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থী রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগ আমলে এনএটিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন।
মুরাদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সময়ে জামায়াতপন্থী কৃষিবিদ ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরকে সোনার নৌকা উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি বলেছেন যে, তার ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো ভূমিকা ছিল না, কিন্তু তিনি এখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সব বদলি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মুরাদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে পোস্টারে তোলা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের প্যানেলে শেরে বাংলা কৃষি বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, পোস্টার লাগানোর দায়িত্বী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছে, তারা মোটেই ঠিক করেনি’।
"আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী তিনি। চব্বিশের ৪ আগস্ট শান্তি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ও অর্থদাতা"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খামারবাড়ি, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তালহা জুবায়ের মাশরুর, সাখাওয়াত হোসেন, মুরাদুল হাসান, শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, আব্দুর রহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর (পূর্ববর্তী পোস্টার), ১০ টা (পোস্টার নামানোর সময়), ৪ আগস্ট (শান্তি মিছিল), ১৭ বছর (আন্দোলন-সংগ্রাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!