📌 এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে বুধবার উত্তেজনা — শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের কামাইছড়ায় প্রায় চার ঘণ্টা সড়কে অবস্থান নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে গতকাল বুধবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করেছে — মঙ্গলবার ছাত্রদল-যুবদলের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের কামাইছড়ায় প্রায় চার ঘণ্টা সড়কে অবস্থান নিলেও রাত ৯টায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- মঙ্গলবার হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপি সমাবেশ শেষে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি ও পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ — সারজিস সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন, পুলিশ রাত ৮টায় উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
- বুধবার বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ — উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ (মুখ্য সংগঠক দক্ষিণাঞ্চল) ও মাহমুদা মিতু (নারী শক্তির সদস্যসচিব)।
- বিকেল ৫টায় ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে রওনা হলেও সোয়া ৫টায় বাহুবলের কামাইছড়ায় আবার পুলিশি বাধা — সড়কে বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়, ২০০+ পুলিশ ও এসপিবিএন সদস্য মোতায়েন।
- এনসিপি নেতারা রাত ৮টায় কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মঙ্গলবারের হামলার বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ দেন, রাত ৯টায় এলাকা ছাড়েন।
- মঙ্গলবার হামলায় এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরী চোখে রডের আঘাত পেয়ে ঢাকা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি — বৃহস্পতিবার সকালে অস্ত্রোপচার নির্ধারিত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে 'গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে জুলাই পদযাত্রা ২০২৬' শিরোনামে জেলায় জেলায় পদযাত্রা করছে এনসিপি। ৬ জুলাই বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পদযাত্রা করতে গিয়ে এই প্রথম হবিগঞ্জে বড় হামলা-বাধার মুখে পড়ল এনসিপি। এর আগে ২৭ জুলাই এনসিপির পদযাত্রার দিন মেহেরপুর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের তারে দলটির শীর্ষ নেতাদের ছবিসংবলিত কুশপুত্তলিকাসদৃশ বস্তু ঝুলতে দেখা যায় এবং সমাবেশস্থলের কাছ থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। তারও আগে ৬ জুলাই রাতে ঢাকার সাভারে পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হন — এ ঘটনায় যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচি ও সমাবেশ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় — চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকে ধাওয়া দেওয়া হলে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে রাত ৮টায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
ওই হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বুধবার দুপুর ৩টায় সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এর মধ্যেই হবিগঞ্জের সমাবেশস্থলের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা। বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। ওই গাড়িবহরে নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম ছাড়াও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিকেডের সামনে হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, "নিরাপত্তার জন্য থ্রেট (হুমকি) কারা? আপনি তাদের না ধরে আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা দিসেন, শ্রীমঙ্গলের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি আনলফুল (বেআইনি) কাজ করতেসেন।"
সারজিস আলম বলেন, "বিএনপি সরকার এখন প্রশাসনকে আবার আওয়ামী লীগের মতো ব্যবহার করবে। ওয়ান ফোরটিফোরের (১৪৪ ধারা) ধারেকাছেও যাইনি, আমাদেরকে আটকায়ে দিসে।"
ঘণ্টাখানেক বাগ্বিতণ্ডার পর বিকেল ৫টায় ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে রওনা হন এনসিপির নেতারা। সোয়া ৫টায় বহরটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর আবারও পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এনসিপি নেতারা সড়কেই অবস্থান নেন — সড়কে একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয় এবং বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা রাস্তায় অবস্থান করেন। এ সময় তাঁরা 'বাহ্ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার' স্লোগান দেন। বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য। প্রায় চার ঘণ্টা বাগ্বিতণ্ডার পর রাত ৯টার দিকে এনসিপির নেতারা ওই এলাকা ছেড়ে যান — তবে তার আগে রাত ৮টায় তাঁরা বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ দেন।
মঙ্গলবার ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরী চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন — তাঁর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে এনসিপি অভিযোগ করেছে। আহত আলিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল ঢাকা এনে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, "চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, আলিফের বাঁ চোখে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। অনেক ফ্লুইড বের হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার হবে।" ডান চোখেও আলিফ ঝাপসা দেখছেন বলে জানান মনিরা শারমিন।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!