📌 মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে দুর্গাপূজা সভায় জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মীরকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় উপস্থিত ইউএনও ও পুলিশের চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নুরুজ্জামান মীরের দাবি, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মীরকে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, যেখানে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুর রহমান ও শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগরে দুর্গাপূজা সভায় জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মীরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনায় একটি ভিডিও পাওয়া গেছে।
- 📌 বিকেল পাঁচটায় উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ৮৫টি পূজামণ্ডপের নেতাদের উপস্থিতিতে সভা শুরু হয়। নুরুজ্জামান মীরকে মাইক্রোফোন থেকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়।
- 📌 মঞ্চে হট্টগোল শুরু হয় যখন বিএনপি নেতা-কর্মীরা নুরুজ্জামান মীরকে ধাক্কা দিয়ে মঞ্চ থেকে বের করে দেন। পরে পুলিশের কর্মকর্তা তাঁকে আগলে ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা করেন।
- 📌 জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মীর দাবি করেন, ইউএনও তাঁকে ডেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলেও বিএনপি নেতারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। তিনি বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় পেছন থেকে কিল-ঘুষি দেওয়া হয়’।
- 📌 বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান জানান, নুরুজ্জামান মীরকে আগে চিনতে পারেননি। তবে তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
- 📌 সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
📰 বিস্তারিত
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মীরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাদের উপস্থিতিতে সভা শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মীরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও প্রথম আলোর হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যায়, নুরুজ্জামান মীর মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য দিচ্ছেন।
বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি যখন, মঞ্চে ও মঞ্চের পাশে থাকা বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পাশ থেকে এক ব্যক্তি নুরুজ্জামান মীরের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। কালো শার্ট পরা এক ব্যক্তি পেছন থেকে নুরুজ্জামান মীরকে ঘুষি মারেন। এরপর মঞ্চে হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশের কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মীরকে আগলে ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুর রহমান উত্তেজিত লোকজনকে থামানোর চেষ্টা করেন।
শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝির কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়। সবার মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’ তবে জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মীর দাবি করেন, ‘ঘটনার কোনো মীমাংসা হয়নি। আমাদের পরিচয় জেনেই অনুষ্ঠানে ইউএনও দাওয়াত করেছিলেন। তবে সময়স্বল্পতার কারণে প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি।’
"আমাদের পরিচয় জেনেই অনুষ্ঠানে ইউএনও দাওয়াত করেছিলেন। মঞ্চেও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে সময়স্বল্পতার কারণে প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপির নেতারা আমাকে না চেনার বাহানা করে হলরুম থেকে অপমান করে বের করে দেন। বাইরে নিয়ে আমাকে পেছন থেকে কিল-ঘুষি দেওয়া হয়।"
নুরুজ্জামান মীর আরও বলেন, ‘ইউএনও সাহেব আমাকে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। তখন বিএনপি নেতা হাফিজুল ইসলাম খানের বক্তব্যের নিন্দা জানাতেই সংসদ সদস্যের সামনে তাঁর লোকজন আবার ঘুষি ও ধাক্কা দেন। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুজ্জামান মীর (জামায়াত আমির), হাফিজুল ইসলাম খান (বিএনপি সাধারণ সম্পাদক), মো. আবদুল্লাহ (সংসদ সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫টি পূজামণ্ডপ, মুন্সিগঞ্জ-১ আসন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!