📌 পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবার ফিরে এল ‘ভাঙা পা’ বিষয়। শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের এক্স-রে দেখিয়ে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙে যায়নি। কুণাল ঘোষের বিরোধিতায় রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা নিল এই দাবি। ৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
পাঁচ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে আবার ফিরে এল ‘ভাঙা পা’ বিষয়। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের সেই বহুল আলোচিত ঘটনাটি পুনরায় উজাগর করেছেন। গত শনিবার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১১ মার্চের এক্স-রে রিপোর্ট দেখিয়ে দাবি করেছেন, সেদিন তার পা ভেঙে যায়নি। শুভেন্দু বলেছেন, মমতা পায়ের ‘ফ্রাকচার’ নিয়ে নাটক করছিলেন সহানুভূতির ভোট পাওয়ার আশায়। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে এখনই সব কথা বলবেন না। ৯ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স-রে দেখিয়ে দাবি করেছেন, তার পা ভেঙে যায়নি — ‘নাটক’ ছিল সহানুভূতির ভোট পাওয়ার জন্য
- 📌 ৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
- 📌 কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর দাবিকে ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, দাবি করেছেন মমতা সত্যিই আহত ছিলেন
- 📌 ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মমতা অভিযোগ করেছিলেন, ভিড়ের মধ্যে কেউ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পায়ে আঘাত লাগে — ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না
- 📌 কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে এক্স-রে করা হয় — পরে প্লাস্টার বেঁধে হুইলচেয়ারে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায় মমতাকে
- 📌 ২০২১ সালের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন, কিন্তু ‘ভাঙা পা’ বিষয়টি রাজনীতিতে অব্যাহত থাকে
📰 বিস্তারিত
২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত লাগে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রেয়াপাড়ার রানীচকে মন্দিরে পূজা করার সময় ভিড়ের মধ্যে কেউ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে। এই ঘটনায় তাঁর পায়ের পাশাপাশি মাথা ও কপালেও আঘাত লাগে। মমতা দাবি করেছিলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে আহত করা হয়েছে। পরে তিনি কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরদিন বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে এক্স-রে করা হয়। পায়ে প্লাস্টার বেঁধে হুইলচেয়ারে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায় তাঁকে। সেই সময় বিরোধীরা এই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, সহানুভূতির ভোট পাওয়ার জন্য এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব যাঁর হাতে, তাঁর সঙ্গেই এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল।
পাঁচ বছর পর শুভেন্দু অধিকারী এই পুরোনো ঘটনাটি পুনরায় উজাগর করেছেন। তিনি ১১ মার্চের মমতার এক্স-রে রিপোর্ট দেখিয়ে দাবি করেছেন, পা ভেঙে যায়নি। তিনি বলেছেন, মমতা নন্দীগ্রামকে অপমান করার জন্য এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে এখনই সব কথা বলবেন না। ৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে ঘটনার পুনরায় তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর দাবিকে ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, মমতা সত্যিই আহত ছিলেন এবং মানুষও সেই ঘটনা দেখেছে। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেয় করার জন্য এই দাবি তুলেছে।
"নন্দীগ্রামকে অপমান করার জন্য এই অভিযোগ তুলে মমতা নন্দীগ্রামকে অপমান করেছেন। মানুষও সেই ঘটনা দেখেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নন্দীগ্রাম (পশ্চিমবঙ্গ), কলকাতা (পিজি হাসপাতাল), বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভেন্দু অধিকারী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অধীর চৌধুরী, কৈলাস বিজয়বর্গীয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ মার্চ ২০২১, ১০ মার্চ ২০২১, ৯ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!