📌 বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হন, পরে বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় তার নাম জড়িত হওয়ায় পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম জড়িত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি সংসদে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
- 📌 মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় তাঁর নাম জড়িত হওয়ায় পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- 📌 ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী মিষ্টি ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০০২ সালে স্বামী সাইদুর রহমান নিউটনের মৃত্যুর পর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে জয়ী হন।
- 📌 তিনি ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার কথা বলেছিলেন।
- 📌 মিষ্টির বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদ সদস্য হন।
- 📌 মিষ্টি ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত হন এবং ৩ মে শপথ নেন।
- 📌 তিনি দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০২ সালে স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন খুন হওয়ার পর তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে তিনি কমিশনার নির্বাচিত হন।
মিষ্টি স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় এলাকায় গ্যাসলাইনের সমস্যা সমাধান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর দায়িত্বকালে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমেছিল। গৃহকর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমেও তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর নির্দেশনায় ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে কর্মরত গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
মহানগর বিএনপিতেও মিষ্টি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ওই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। তিনি মামলাগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।
মিষ্টির বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছিলেন বিএনপির পরিচিত নেতা। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পিন্টু ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন।
"আমি তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছি। এলাকার কয়েকটি সমস্যা সমাধানের দাবিও করেছিলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা সিটি করপোরেশন (৮ নম্বর ওয়ার্ড), মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, সাইদুর রহমান নিউটন, তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জানুয়ারি (জন্ম), ৮ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ মে (নিউটনের মৃত্যু), ২০টি মামলা, ২৩ নম্বর আসন, ৩ মে (শপথ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!