📌 গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসনের পতনের পরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে বর্তমান সরকারের গণমাধ্যম সংস্কারের অভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসনের পতনের পরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৬২ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৪ বছর পরও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবি অব্যাহত: মতিউর রহমান
- 📌 ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যম সংস্কারের কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি
- 📌 ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর কার্যালয়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশের অকার্যকর প্রতিক্রিয়া
- 📌 ৮০-এর কাছাকাছি মামলা হয়েছিল প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা আমলে
- 📌 ৫০টি দেশি-বিদেশি কোম্পানির বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছিল সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে
- 📌 বিএনপি সরকারের ৩১ দফার ১১ নম্বর দফায় মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবায়ন অজানা
📰 বিস্তারিত
বক্তৃতার শুরুতে মতিউর রহমান ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি তুলে ধরেন। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভের দাবিতে ছিল কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, ‘সেই বিক্ষোভে আমি নিজেও অংশ নিয়েছিলাম। এরপর বহু আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও মূল বিষয়গুলো একই জায়গায় থেমে আছে। দুঃখ হলো সে দাবিতে এখনো আমাদের কথা বলতে হয়।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতনকে অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, তবে প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীকে অনেকটা হতাশ করেছে। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের কিছু উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি। গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় নানা চাপ ও ভয়ের মুখে অনেক সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকানা বদলেছে, অনেক সম্পাদকের জায়গায় নতুন কেউ এসেছেন, আর অনেক সাংবাদিককে কাজ ছাড়তে হয়েছে।
প্রথম আলোর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরো সময় ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে হয়েছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ ও হুমকি ছিল। দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশ থেকে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোর অফিসের সামনে প্রায় সাত দিন বিক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রায় সারা রাত প্রথম আলো কার্যালয়ে আগুন জ্বলেছে, লুটপাট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সময়মতো ও যথেষ্ট শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেনি। দায়িত্বশীলরা তাদের সরাসরি কঠোর নির্দেশ দেননি। এরপর ডেইলি স্টারের কার্যালয়ও অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়।
শেখ হাসিনার আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ ভীষণ সংকুচিত ছিল উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, সাংবাদিক ও সম্পাদকদের জেলে যেতে হয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রচারসংখ্যা কমানোর চেষ্টা হয়েছে, সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫০টি দেশি-বিদেশি বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপনও বন্ধ করা হয়েছিল। প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রথম আলোর মালিকানা ছেড়ে দিতে কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছিল। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল সম্পাদককে সরানো এবং মালিকানা একটি অর্থ পাচারকারী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া। মতিউর রহমান বলেন, এসব শেখ হাসিনার নির্দেশেই হয়েছিল।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসে প্রায় ১৯ বছর পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগ শুরু করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার ১১ নম্বর দফায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা আছে। নির্বাচনী ইশতেহারে নির্ভীক সাংবাদিকতার সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
"সেই বিক্ষোভে আমি নিজেও অংশ নিয়েছিলাম। এরপর বহু আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও মূল বিষয়গুলো একই জায়গায় থেমে আছে। দুঃখ হলো সে দাবিতে এখনো আমাদের কথা বলতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; পাকিস্তান (১৯৬২)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মতিউর রহমান (প্রথম আলো সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ বছর, ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮ মাস, ১৮ ডিসেম্বর, ৫০টি কোম্পানি, ৮০টি মামলা, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!