📌 মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নে তার অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা। বর্তমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তুলনায় তার দর্শনকে বৈজ্ঞানিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে প্রশংসা করা হয়
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ঢাকার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উঠে এসেছে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নে তার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চায় তার দর্শনকে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলেছিলেন, যা বর্তমান চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আলোচিত হচ্ছে
- 📌 পাহাড়িদের অধিকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে তার দর্শনকে বর্তমান সরকারের জাতীয়তাবাদ থেকে আলাদা করে প্রশংসা করা হয়
- 📌 বাঙালি জাতীয়তাবাদকে অস্বীকার করে লারমা বৈজ্ঞানিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরেন, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক
- 📌 পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার পুনর্বাসন ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্তি পেতে তার সংবিধান দর্শনই ছিল মূল সমাধান
- 📌 মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকরা লারমার পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শনকে বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়ের সমাধানের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন
📰 বিস্তারিত
আলোচনা সভায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি–২০২৬ আয়োজন করে। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, পাহাড়িদের সংকট ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল। তিনি লারমাকে বলেন, তিনি ভিন্ন জাতির অধিকার তুলে ধরেন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন।
গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী ঈশিতা দস্তিদার বলেন, লারমার সংবিধান দর্শন বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও অধিকার সম্পর্কিত ক্ষুদ্রতম বিষয়েও জড়িত। তিনি বলেন, বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়ের সময় তার পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, বর্তমান সরকারের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ স্পষ্ট নয়, কিন্তু লারমার দর্শন স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক। তিনি বলেন, লারমা ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আলোচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা তার দর্শনেরই অংশ।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংজ্ঞায়ন করতে গিয়ে আদিবাসীদের অধিকারকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সরকারের দখলদার চরিত্র পরিবর্তিত হয় না, তাই লারমার দর্শন বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, লারমার সংবিধান দর্শন বাংলাদেশের সংবিধানের আলাম বা চাকমাদের বুননশিল্পের মতো। তিনি বলেন, বাঙালি ছাড়া অন্যান্য জাতিসমূহের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র বাঙালি কর্তৃত্ববাদের জাত্যভিমানী চরিত্রকে জাহির করছে। লারমার দর্শনে জুম চাষ, কৃষি প্রশ্ন, পরিবেশ-প্রতিবেশ, নারী প্রশ্ন ও শোষিত-নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
"মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন বাংলাদেশের সংবিধানের আলাম। বাঙালি ছাড়া অন্যান্য জাতিসমূহের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র বাঙালি কর্তৃত্ববাদের জাত্যভিমানী চরিত্রকে জাহির করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাংলা একাডেমি), পার্বত্য চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা, আমেনা মহসিন, ঈশিতা দস্তিদার, দীপায়ন খীসা, মেইনথিন প্রমীলা, পাভেল পার্থ, ফিরোজ আহমেদ, মারুফ মল্লিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ (জন্মবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!