📌 আজ মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। বিশ্বব্যাপী চলমান সহিংসতা ও সংঘাতের এই সময়ে তাঁর শান্তি ও অহিংসার দর্শন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বের গল্পে অহিংসা ও সত্যাগ্রহের নৈতিক শক্তিকে তুলে ধরা হয়েছে
আজ বিশ্বব্যাপী শান্তিবাদী নেতা মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৬৯ সালের এই দিনে তিনি ভারতের গুজরাটের পোরবন্দরে একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনদর্শন ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা পৃথিবীকে একটি নতুন দিগন্তে নিয়ে আসে। রোমাঁ রোলাঁর লেখা ‘মহাত্মা গান্ধী’ বইয়ে তাঁকে ‘ইউনিভার্সাল বিয়িং’ বা বিশ্বমানব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আজকের বিশ্বে সহিংসতা ও সংঘাতের মহামারী আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে ১৩০টিরও বেশি সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এই সময়ে শান্তি, সহাবস্থান ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তির মসৃণ পথ নির্মাণে মহাত্মা গান্ধীসহ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু ও দালাই লামার মতো শান্তিবাদী নেতাদের দর্শনকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন, আজ তাঁর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে ১৯১৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভারতে ফিরে আসেন
- 📌 ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংসা’কে নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেন
- 📌 তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’ গুজরাটি ভাষায় রচনা করেন, ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মহাদেব দেশাই
- 📌 বিশ্বব্যাপী ১৩০টিরও বেশি সশস্ত্র সংঘাত চলছে, শান্তির দাবি তীব্রতর হয়ে উঠেছে
📰 বিস্তারিত
মহাত্মা গান্ধী ছিলেন এক অনন্য জাতীয়তাবাদী নেতা। তিনি ভারতের ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী স্বরাজ আন্দোলনের পুরোধাপুরুষ। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২১ বছর (১৮৯৩-১৯১৪) আইনজীবী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি অভিবাসী ভারতীয়দের অধিকার রক্ষায় লড়াই করেন। বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে তিনি নিজেও নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন। শ্বেতাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত ট্রেনের প্রথম শ্রেণির আসনে বসার কারণে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং শারীরিক নিগৃহীতির শিকার হন। তারপরও তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ে হাল ছেড়ে দেননি।
৯ জানুয়ারি ১৯১৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসেন। ভারতবর্ষে তিনি উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে প্রধান নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতা আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দিতে তিনি ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংসা’কে নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, অহিংসা নিষ্ক্রিয় দুর্বলতা নয়, বরং সক্রিয় ও সাহসী নৈতিক শক্তি। তিনি বলেছেন, অহিংসা অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কার্যকর উপায়। তাঁর জীবনই তাঁর আদর্শ। তাঁর নৈতিকতা, ধর্মচিন্তা, সহাবস্থান ও রাজনৈতিক নীতি আজও প্রাসঙ্গিক।
মহাত্মা গান্ধী ‘দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’ শিরোনামে আত্মজীবনী লিখেছিলেন। বইটি তিনি গুজরাটি ভাষায় রচনা করেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মহাদেব দেশাই এটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। দেশাই (১৯১৭-১৯৪২) গান্ধীর বিশ্বস্ত অনুগামী ও দিনলিপিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর জীবন ও দর্শনের উপর বিশ্বজুড়ে অসংখ্য জীবনী ও বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর চিঠি, প্রবন্ধ ও জীবনদর্শন নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
"অহিংসা হলো সক্রিয় ও সাহসী নৈতিক শক্তি, যা অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক কার্যকর উপায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পোরবন্দর (গুজরাট, ভারত), দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতে, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু, দালাই লামা, মহাদেব দেশাই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫৭ (জন্মবার্ষিকী), ১৩০ (সশস্ত্র সংঘাত), ৯ (জানুয়ারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!