📌 কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান আমির ব্যাংকের নেতৃত্ব দখলের ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান আমির ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নিজেকে সভাপতি পদে দখল করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে এই ষড়যন্ত্র চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান আমির ব্যাংকের সভাপতি পদ দখলের ষড়যন্ত্র করছেন।
- 📌 ২৬ জন বিএনপি নেতা (যাদের মধ্যে মুজাহিদ চৌধুরী, সারওয়ার জাহান দোলন, তোফায়েল আহমেদ অন্তর্ভুক্ত) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সদস্য নয় বলে দাবি করেছেন সভাপতি।
- 📌 ব্যাংকের ১৭৪টি সমবায় সমিতি মালিকানায় রয়েছে, কিন্তু ৩৫ শতক জমি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ডেভেলপারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- 📌 সভাপতি দাবি করেছেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
- 📌 আমিরুজ্জামান আমির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নাজমুস সা’দাত অনিয়ম করে সভাপতি হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় এলাকায় ব্যাংকের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত এই অভিযোগ তুলেন। তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বরুড়া উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলায় তিনি বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় করা একটি মামলায়ও তিনি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সভাপতি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট অপবাদ দিয়ে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির ব্যাংকের আহ্বায়ক বা সভাপতি হতে চাইছেন। কিন্তু সমবায় ব্যাংকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যাংক বা এর অধীন কোনো সমবায় সমিতির সদস্য না হলে পরিচালনা পর্ষদে আসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সভাপতি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগে কেটিটিসি লিমিটেডের সভাপতি শাহজাহান সিরাজের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে ২৬ জন বিএনপি নেতার স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু তাঁরা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সদস্য নয়।
ব্যাংকের ইতিহাস ও সম্পত্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে ব্যাংকটির মালিকানায় রয়েছে ১৭৪টি সমবায় সমিতি। ব্যাংকের ৩৫ শতক জমিতে পুরোনো চারটি ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ভবন নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ডেভেলপারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
"আমার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সমবায় মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি তদন্ত করা হোক। তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত।"
আমিরুজ্জামান আমির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দাত আমার বিরুদ্ধে মনগড়া ও অসত্য অভিযোগ করেছেন। তিনি সমবায় সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে নিজের মতো করে নির্বাচন দিয়ে সভাপতি হয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা, বরুড়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত, আমিরুজ্জামান আমির, শাহজাহান সিরাজ, জাকারিয়া তাহের সুমন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৪টি সমবায় সমিতি, ৩৫ শতক জমি, ২৬ জন বিএনপি নেতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!