📌 ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিলে হেনরি কিসিঞ্জার ব্যাপক সমালোচিত হন। স্বাধীনতার তিন বছর পর ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি ঢাকায় সফর করেন। সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে সমালোচিত হন
১৯৭১ সালের গণহত্যা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের পাকিস্তান সমর্থনের বিরুদ্ধে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা প্রতিবাদ জানান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখে। এই প্রতিবাদের পর ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর, স্বাধীন বাংলাদেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সফর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিলে হেনরি কিসিঞ্জার ব্যাপক সমালোচিত হন।
- 📌 ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর কিসিঞ্জার ঢাকায় সফর করেন, যা স্বাধীন বাংলাদেশে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।
- 📌 সফরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মার্কিন সহায়তা।
- 📌 কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে সমালোচিত হন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা ইউরাল এলেক্সিস জনসন এই বক্তব্য ব্যবহার করেন।
- 📌 সফরের আগে ২৬ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেন, যিনি বলেছিলেন বাংলাদেশ কখনো মার্কিন সহায়তা নেবে না।
- 📌 ঢাকায় কিসিঞ্জারের সফরকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি দিল্লি থেকে আনা একটি বুলেটপ্রুফ লিমুজিনে সফর করেন।
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে প্রতিবাদ বার্তা পাঠান। তবে নিক্সন প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখে। এর পেছনে ছিল চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হেনরি কিসিঞ্জার। আলোচনায় বাংলাদেশের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন মার্কিন কর্মকর্তা ইউরাল এলেক্সিস জনসন। তিনি বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) হবে ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’। কিসিঞ্জার জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে শুধু আমাদের বাস্কেট কেস না’। এই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ কথাটি সরাসরি কিসিঞ্জার বলেননি, তবে তাঁর সম্মতির ইঙ্গিত ছিল। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর বেলা ১২:৩০ মিনিটে হেনরি কিসিঞ্জার ঢাকায় পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জারসহ ৭৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। সফরটি প্রায় ২০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন সহায়তা।
সফরের আগে ২৬ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেন। তিনি স্বাধীনতার পরপরই বলেছিলেন, বাংলাদেশ কখনো মার্কিন সহায়তা নেবে না। এই পদত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যে কিসিঞ্জারের ঢাকা সফর ছিল রাজনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
"তারা (বাংলাদেশ) হবে ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস।"
"হ্যাঁ, তবে শুধু আমাদের বাস্কেট কেস না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, দিল্লি, ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেনরি কিসিঞ্জার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ড. কামাল হোসেন, আর্চার কে ব্লাড, ইউরাল এলেক্সিস জনসন, তাজউদ্দীন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ অক্টোবর (১৯৭৪), ২০ ঘণ্টা, ৭৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল, ২৫ মার্চ (১৯৭১), ৬ ডিসেম্বর (১৯৭১), ২৬ অক্টোবর (১৯৭৪)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!