📌 ঝিনাইদহে সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ও আওয়ামীকরণের অভিযোগে জামায়াত নেতারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা দায়িত্বপালন করতে না পারলে প্রশাসককে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন
ঝিনাইদহে সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে জামায়াত নেতারা জেলা প্রশাসককে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগের দাবিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আওয়ামীকরণের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন।
- 📌 ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, সার ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ব্যাপক আওয়ামীকরণ হয়েছে।
- 📌 জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই দায়িত্বপালন করতে না পারলে জেলা প্রশাসককে পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং চুড়ি পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন।
- 📌 সমাবেশে ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলা থেকে শত শত জামায়াত নেতাকর্মী অংশ নেন।
📰 বিস্তারিত
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। সমাবেশে জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে আসা জামায়াত নেতাকর্মীদের শত শত অংশগ্রহণ ছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ব্যাপক আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম সারসংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে এ দুর্নীতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারণে কৃষকেরা দিশেহারা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবু বকর আরও বলেন, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং কমিটি এবং দলীয় বিবেচনায় দেওয়া সব ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে দুর্নীতির খুঁটি বানিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি দায়িত্বপালন করতে না পারলে জেলা প্রশাসককে পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে চুড়ি পাঠানোর কথাও বলেন তিনি।
আব্দুল হাই আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদকে ঘিরে কথিত অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি আত্মীয়স্বজনের যোগসাজশে পরিচালিত হচ্ছে। অবিলম্বে সংশোধন না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
"সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন।"
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল আলিম, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ, পায়রা চত্বর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্স, জামায়াত নেতা আলী আজম মো. আবু বকর, আব্দুল হাই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ অক্টোবর, ৬টি উপজেলা, শত শত নেতাকর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!