📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর বলেছেন, আনাচে-কানাচে মাদ্রাসার অপকর্মীদের সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের ফতোয়া বাতিল করা দরকার। তিনি সরকারের মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর আনাচে-কানাচে মাদ্রাসার অপকর্মীদের সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। তিনি বলেছেন, ধর্মের শিক্ষকদের অপরাধের জন্য তাদের প্রকাশ্যে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা উচিত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তার একটি ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর বলেছেন, ধর্মের শিক্ষকদের অপরাধের জন্য তাদের প্রকাশ্যে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা দরকার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা উচিত।
- 📌 তিনি বলেছেন, ধর্মের শিক্ষকরা ধর্মকে অপমান করছে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভাঙছে।
- 📌 একজন বাবা তার মেয়ের প্রতি অপমানের ঘটনার পর একটি মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, "একে মব বলে চালাকি করার কোন উপায় নেই।"
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, নতুন ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং তাদের বক্তব্যের জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত।
- 📌 তিনি বলেছেন, "আলেম" বা "ওলামা" দাবী করা ব্যক্তিরা ধর্মীয় জ্ঞান ও আচরণে ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 সরকারের আনাচে-কানাচে মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন নেই বলে মনে করেন তিনি এবং সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
📰 বিস্তারিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর বলেছেন, ধর্মের শিক্ষকদের অপরাধের জন্য তাদের প্রকাশ্যে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা উচিত। তিনি বলেন, "এমনিতে কোন ধর্ষণকারী, বলৎকার, নির্যাতনকারী কিংবা দুর্নীতিবাজ আমার জানাজা পড়াক, সেটি আমি চাই না এবং আমার পরিবারের কেউ চাক সেটি আমি পছন্দ করবো না। আমি মনে করি এদের প্রকাশ্যে থু থু দেবার ব্যবস্থা করা উচিৎ। তারপর বিচার।" তিনি ধর্মের শিক্ষকদের অপরাধের জন্য তাদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার দাবি তোলেন।
অধ্যাপক নিস্তার জাহান বলেছেন, ধর্মের শিক্ষকরা ধর্মকে অপমান করছে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভাঙছে। তিনি বলেন, "এরা ধর্মের কথা বলে ধর্মকে অপমানিত করেছে এবং করছে। সাধারণ মানুষ হিসেবে (যারা ধর্ম অনুসরন করেন) অসংখ্য মানুষ এদের অনুসরন করেন, এবং এদের কথায় বিশ্বাস করেন। সেক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এরা কেবল ভঙ্গই করেনি, তাদেরকেও অপমানিত করেছে।"
একজন বাবা তার ছোট্ট মেয়েটির প্রতি অপমানের পর রাগ হয়ে একটি মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি বলবো, তার মনের অবস্থা বোঝার। আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনা হলে আপনি কী করতেন? একে মব বলে চালাকি করার কোন উপায় নেই। ঐ তথাকথিত শিক্ষকের প্রতি কিন্তু আমরা আপনাদের ঘৃণা পর্যন্ত দেখলাম না। খুব দুঃখজনক।"
অধ্যাপক নিস্তার জাহান বলেছেন, নতুন ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং তাদের বক্তব্যের জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, "আমি মনে করি, যেই তথাকথিত মওলানা এই ফতোয়া দিয়েছে, তাকে সামাজিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা উচিৎ এবং তার বক্তব্যের জন্যও তাকে অন্য শাস্তি দেয়া যায় কিনা সেটা ভাবা জরুরি।"
তিনি আরও বলেন, "আমার দৃষ্টিতে সে ঐ কথা বলতে পারে না। এবং সে ঐ একই অপরাধ করেছে। ধর্মকে অপমানিত করেছে এবং একজন অন্যায়কারির পক্ষ নিয়েছে। এটা অগ্রহণযোগ্য এবং খুবই নিন্দার্হ। ঐ লোকের তওবা করাও জরুরি।"
অধ্যাপক নিস্তার জাহান বলেছেন, "আলেম" বা "ওলামা" দাবী করা ব্যক্তিরা ধর্মীয় জ্ঞান ও আচরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, "আলেম বলতে যা বোঝায়, তা কি এরা জানে? সেই পরীক্ষায় এরা অনেকে, বহু ক্ষেত্রেই, কথা ও কাজে প্রমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে, এদের 'আলেম' ইত্যাদি বলা হবে কেন?"
তিনি আরও বলেন, "গ্রামে-গঞ্জে, আনাচে-কানাচে নানান মাদ্রাসায় ভর্তি। আমার ধারণা, সকল মাদ্রাসার অনুমোদন নেই সরকারের। এগুলি হতে দেয়া যাবে না। এব্যাপারে সরকারের অবস্থান আশা করছি। সেটি হলে, ভুয়া ফতোয়াবাজদের সংখ্যা কমে যাবে; এই সেক্টরের মূর্খতার পরিমান কমবে। একই সাথে দুশ্চরিত্র ও বেয়াদব 'আলেমের' সংখ্যাও কমে যাবে।"
"আমি মনে করি এদের প্রকাশ্যে থু থু দেবার ব্যবস্থা করা উচিৎ। তারপর বিচার। এবং সেই বিচারে তার সর্বচ্চো শাস্তি হোক সেটি আমি চাইবো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!