📌 যশোরে সার ডিলার নিয়োগে জামায়াতের পাঁচ এমপি অভিযোগ তুলেছেন দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির। তারা দাবি করেছেন, ৯৩ ইউনিয়ন ও আট পৌরসভায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের পক্ষে অনিয়মে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যশোরে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দলীয়করণ ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের পাঁচ এমপি। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেছেন, ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষে অনিয়মে ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ই ডিলার নির্বাচনের মূল মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের ৯৩ ইউনিয়ন ও ৮ পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের পাঁচ এমপি
- 📌 জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহায়তায় অবৈধভাবে ডিলারশিপ পেয়েছেন মাদক আটককারীর স্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা
- 📌 মনিরামপুর উপজেলার মাসুদ পারভেজ রুবেলের ডিলারশিপ পেয়েছেন, যিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিজুর রহমান মফিজের ছেলে
- 📌 জেলা প্রশাসক ও সরকারি কর্মকর্তারা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ না দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য দিয়েছেন
- 📌 জামায়াত এমপি গোলাম রসূল দাবি করেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন 'বিএনপি ছাড়া কেউ ডিলার পাবে না'
📰 বিস্তারিত
যশোরের সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জামায়াতের পাঁচ এমপি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম রসূল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি প্রকাশিত ডিলার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রমাণ দেন।
জামায়াত নেতাদের দাবি, যশোরের পাঁচটি সাংসদীয় আসনে বিরোধী দলের এমপি থাকলেও ডিলার নিয়োগে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বরং জেলা প্রশাসক জেলা বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুসারে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তারা আরও দাবি করেছেন, সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ না দিয়ে বিএনপির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত এমপিরা উল্লেখ করেছেন, মাদকসহ আটক এক কারবারির স্ত্রী, ফৌজদারি মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মনিরামপুর উপজেলার মেসার্স নাফিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলকে ডিলার করা হয়েছে, যিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিজুর রহমান মফিজের ছেলে। ঝাঁপা ইউনিয়নের মোলাম আলীকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার জন্য ডিলার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
"সার-বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন ও ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমি কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য। আমি যশোরের জেলা প্রশাসককে বলেছি, আমরা পাঁচজন এমপি আছি, কেন আমার একজন লোক রাখা হয়নি? তখন ডিসি বলেছেন, সরকারের নির্দেশমতো তিনি কাজ করছেন।"
গোলাম রসূল আরও বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে 'এই ডিলারশিপ বিএনপি ছাড়া কেউ পাবে না'। তিনি দাবি করেছেন, '১৫ বছর ধরে বিএনপি নির্যাতিত হয়েছে, নিষ্পেষিত হয়েছে, কারাগারে গেছে। তাহলে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদীদের কাছে নির্যাতিত হয়েছে শুধুই বিএনপি! এই যশোরে ১২ হাজার মামলায় জামায়াতের হাজার হাজার কর্মী ছিল।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর প্রেস ক্লাব, যশোর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক গোলাম রসূল (জামায়াত এমপি, যশোর-৪), জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৩ ইউনিয়ন, ৮ পৌরসভা, ১৫ বছর, ১২ হাজার মামলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!