📌 জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় পুলিশ ডিভাইস ও প্রমাণ জব্দে ব্যর্থতা সত্ত্বেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের কর্মী মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার ডিভাইসের ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় পুলিশের তদন্তে গুরুতর বাঁধা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি হ্যাকের ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বাদী ও ভুক্তভোগীর ডিভাইস জব্দে ব্যর্থতা এবং এক্স কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগে অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই
- 📌 পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সাইবার অপরাধ ইউনিটের তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে ডিভাইস ও তথ্য জব্দে ব্যর্থতার কারণে
- 📌 রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার ডিভাইসের ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি
- 📌 এক্স কর্তৃপক্ষের সাথে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে কঠিনতা সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 জামায়াতের আমিরের আইনজীবী জানান, বিষয়টি মনে রাখতে পারছেন না, তবে তদন্তে ডিভাইস জমা দেওয়া না হওয়ায় অগ্রগতি নেই
📰 বিস্তারিত
গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এই ঘটনায় জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়। পরে অ্যাকাউন্ট থেকে নারীবিদ্বেষী, অশ্লীল ও উসকানিমূলক পোস্ট পোস্ট করা হয়, যা জাতিগত সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়াতে পারে বলে দাবি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তথ্য পেতে হলে দুই দেশের আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তে ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা জরুরি বলে মনে করা হলেও বাদী সিরাজুল ইসলামকে চারবার চিঠি দিয়ে ডিভাইস চাওয়া হলেও সেগুলো জমা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হলেও ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ছরওয়ারে আলম জামিন পেয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
"জামায়াতের আমিরের ডিভাইসগুলো না পাওয়ায় সেগুলোর ফরেনসিক করা সম্ভব হয়নি। সবকিছুর প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আসল সত্য জানা যাবে।" — ডিএমপির গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) উপকমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ডিজিটাল ফরেনসিক গবেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, ডিভাইস দিতে যত দেরি হবে, তত আলামত হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি মামলার বাদী সিরাজুল ইসলামের ডিভাইস জমা না দেওয়ার কারণে তদন্তে অগ্রগতি হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (হাতিরঝিল থানা, রাজধানীর এজিবি কলোনি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির), মো. সিরাজুল ইসলাম (বাদী), মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম (সহকারী প্রোগ্রামার), মো. তরিকুল ইসলাম (উপকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ জানুয়ারি (হ্যাকের তারিখ), ১৫-২০ জন (অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি), ৩ ফেব্রুয়ারি (গ্রেপ্তার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!