📌 জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের আচরণকে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’র মতো বর্ণনা করেছেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের বিচারহীনতা ও ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ‘১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’র মতো আচরণের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামায়াত নেতা আযাদ বলেছেন, সরকারের প্রতিটি আচরণে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’র মতো আচরণের সন্দেহ তৈরি হচ্ছে
- 📌 জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখনো হয়নি, কিছু রায় কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আযাদ
- 📌 সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন তিনি
- 📌 বিএনপির নেতারা সংসদ নির্বাচনে দলের ৩০ শতাংশ ভোট আওয়ামী লীগের বলে দাবি করেছেন, যা সরকারের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ বলে আযাদ
- 📌 আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ‘১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে আযাদের তথ্য
- 📌 ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া মুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সকাল ৭টায়
- 📌 লংমার্চের পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে শরীয়তপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহে
📰 বিস্তারিত
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’র মতো আচরণের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই’।’
আযাদ জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড, আহত ও পঙ্গুত্ববরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘কিছু রায় হয়েছে, কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আবার নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি দাবি করেছেন, ‘বিএনপির বিভিন্ন নেতা সংসদ নির্বাচনে তাঁদের দলের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট বলে দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।’
আযাদ আরও বলেছেন, ‘থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে বিএনপি এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করছে না। বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের বিষয়ে সরকারের অভিযোগকে ভুয়া ও অসত্য বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করা হোক।’ তিনি দাবি করেছেন, ‘সরকার গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। এই রিপোর্ট যে আপনারা বানিয়ে দিয়েছেন—এটা বুঝতে আমাদের আর দেরি নাই।’
আযাদ আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ‘১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।’
১১ দলের পরবর্তী লং মার্চের বিষয়ে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া মুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। সেখান থেকে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল নয়টায় শরীয়তপুরের জাজিরায়, বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটে, খুলনার বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর দুপুর দুইটায় পথসভা হবে। এ ছাড়াও যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে তিনটায়, বিকেল পাঁচটায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালেও পথসভা করা হবে।
"সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিন্টো রোড, বায়তুল মোকাররম), শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হামিদুর রহমান আযাদ (জামায়াত নেতা), নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এনসিপি), আতাউল্লাহ আমীন (খেলাফত মজলিস), মুয়াযযম হোসাইন হেলাল (জামায়াত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ দল, ৩০ শতাংশ, ২৯ অক্টোবর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ৩১ অক্টোবর, ৭ টা, ৮ টা, ১১ টা, ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!