📌 জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংস্কার মানতে হবে। তিনি সরকারের অধ্যাদেশ বাদ দেওয়ার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ইতিহাসের আলোচনা করে তিনি বলেছেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই? মেনেছেন। সংস্কার মানেন নাই? মানতে হবে’। তিনি সরকারের নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানানোর পরেও বর্তমানে রায় মানতে অস্বীকার করছিলে তা বিরোধীদল হিসেবে অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণভোটের রায় মানতে হবে: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই? মেনেছেন। সংস্কার মানেন নাই? মানতে হবে’।
- 📌 অধ্যাদেশ বাদ দেওয়া: সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা হয়নি, যা ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
- 📌 রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল: সরকার জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ করেছে বলে দাবি করেছেন শফিকুর রহমান।
- 📌 দুর্নীতি দমন ব্যর্থ: দুদকের চেয়ারম্যানের পরিবর্তন ও পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে বিদায় দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
- 📌 ১৯৭৫ সালের ইতিহাসের আলোচনা: জামায়াত আমির ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাসের সঠিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং জিয়াউর রহমানের অবদান সম্পর্কে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 মাতারবাড়ী বন্দর: সরকার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে অদৃশ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানানোর পরেও বর্তমান সরকার রায় মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন তারা বাকশালি ধারায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে’।
শফিকুর রহমান সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ হতো, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে’। তিনি সরকারের জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা শুরু হয়েছে’।
দুদকের চেয়ারম্যানের পরিবর্তন ও পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে বিদায় দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাঁর আমলনামা এর মধ্যেই জাতি জানতে পেরেছে; এমন মানুষ দিয়ে দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব’। তিনি সরকারের ক্ষমতায় আসার পরের অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিবাদ না করলে বিরোধী দল হিসেবে বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ইতিহাসের আলোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘সামরিক অফিসাররা তাঁদের প্রতি উপহাস ও অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন’। তিনি বলেছেন, ‘৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটান, কিন্তু সামরিক কর্মকর্তারা সে অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেন’। তিনি ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাসের সঠিকতা নিয়ে বলেছেন, ‘৩ থেকে ৬ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দী ছিলেন। তাঁর কোনো অবদান নেই, তিনি নিরুপায় ছিলেন। তাঁকে সিপাহিরাই ৭ নভেম্বর মুক্ত করে এনেছিলেন’।
"বিপ্লব সিপাহিরা করেছিল, সংহতি জানিয়েছিল সাধারণ জনগণ। এ জন্যই দিবসটির নাম হয়েছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস।"
জামায়াত আমির বলেছেন, ‘৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি হলেন এবং বিএনপি গঠনের কাজে এগিয়ে গেলেন’। তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে বিএনপি ছিল না, ১৯৭৫ সালে ছিল না। তবে দুই সময়েই জিয়াউর রহমান ছিলেন’। তিনি জিয়াউর রহমানের অবদান সম্পর্কে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা কারও অবদানকে ছোট করে দেখার পক্ষে নই’। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর নামটি কেউ এখন মুখে নেয় না’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগরী, মগবাজার, আল ফালাহ মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩৩টি অধ্যাদেশ, ২০টি বাদ দেওয়া, ৫৫ বছর ইতিহাস, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ৭ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!