📌 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। মগবাজারে সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৫টি দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর তদন্ত ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১৫টি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শ্রমিকের মজুরি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার, যা উপেক্ষা করে শিল্প ও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫টি দাবি: পোশাকশ্রমিকদের মজুরি জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর করার দাবি জামায়াতের প্রধান দাবির মধ্যে একটি।
- 📌 মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষতা: সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত মজুরি বোর্ডে জাতীয় শ্রমিক দলের নেতা ও ক্ষমতাসীন রাজনীতির সাথে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলের শ্রমিকসংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- 📌 তদন্ত ও শাস্তি: নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
- 📌 শ্রমিকদের অধিকার: শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, বকেয়া বেতন ও ভাতা দ্রুত পরিশোধ এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 কার্যকর পদক্ষেপ: কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, বন্ধ শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালোতালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সে শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে জাতীয় শ্রমিক দলের নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে রাখা হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের শ্রমিকসংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাউকে এ বোর্ডে রাখা হয়নি।
জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, মো. শাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন সহ অন্যান্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দাবির মধ্যে রয়েছে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও নিহত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ এবং চলমান শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় গ্রেপ্তার নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করার দাবি করা হয়েছে।
"শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সে শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মগবাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি দাবি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!