📌 ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আইনি নথি পাওয়ার পরও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না
ভারত সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হবে। বুধবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অনুরোধের পরও ভারত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়, যা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হবে — রণধীর জয়সওয়াল
- 📌 নথি পাওয়ার পরও অপেক্ষা: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি পাওয়ার পরও ভারত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারছে না
- 📌 ২০১৩ সালের চুক্তি: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারতের ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ, যা ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়
- 📌 রাজনৈতিক অপরাধের সুযোগ: চুক্তির ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের অনুরোধ: বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি পাওয়ার পরও ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারছে না। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তিটি ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়, যেখানে প্রত্যর্পণের অনুরোধের ক্ষেত্রে অপরাধের বিস্তারিত প্রমাণ দাখিলের বাধ্যবাধকতা কমানো হয়। তবে চুক্তির ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও ভারত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারও জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক ও গঠনমূলক। জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আপাতত আইনি কাঠামোর মধ্যেই পর্যালোচনা করছে ভারত।
"শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ভারত আগেও তাদের অবস্থান জানিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি (ভারত), ঢাকা (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রণধীর জয়সওয়াল (ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র), শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ আগস্ট ২০২৪ (শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়েন), ৬ নম্বর ধারা (রাজনৈতিক অপরাধের সুযোগ), ৮ নম্বর ধারা (অভিযোগের সত্যতা পরীক্ষা), ৩ অক্টোবর (হাইকমিশনারের বক্তব্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!