📌 নারীরা পুরুষতন্ত্রের শিকার নন, বরং অন্য নারীদের ওপর পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতির চাপ প্রয়োগ করে বিষবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখছেন। শিশুকাল থেকেই লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা চাপিয়ে দেওয়া এবং সহিংসতার শিকার নারীদের দোষারোপের মাধ্যমে তারা পুরুষতন্ত্রকে পুনরুৎপাদন করছেন
নারীরা শুধু পুরুষতন্ত্রের শিকার নন, বরং অন্য নারীদের ওপর পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতির চাপ প্রয়োগ করে বিষবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখছেন। এই অদৃশ্য আঘাতের মাধ্যমে তারা পুরুষতন্ত্রের পুনরুৎপাদক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। লিখেছেন উম্মে ওয়ারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ হাজার ৯১১টি নারী নির্যাতনের অভিযোগে জরুরি সেবায় জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে, এর মধ্যে ৬২ শতাংশ অভিযোগ স্বামী বা সঙ্গীর বিরুদ্ধে
- 📌 পুরুষতন্ত্রের রীতিনীতির মাধ্যমে নারীরা অন্য নারীদের ওপর সহিংসতা উপেক্ষা করে বিষবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখেন
- 📌 শিশুকাল থেকেই লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা চাপিয়ে দেওয়া হয়: ছেলেদেরকে ‘রাগী’ ও ‘পুরুষ’ হিসেবে, মেয়েদেরকে ‘ধৈর্যশীল’ ও ‘মানিয়ে চলতে শেখানো’ হয়
- 📌 নারীবিদ্বেষের কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেট ম্যান নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
আমাদের সমাজে ছেলেদের ‘রাগী’, ‘পুরুষ’ বা ‘আবেগহীন’ হতে শেখানো হয়, যা পরবর্তীতে তাদের ‘টক্সিক মাস্কুলিনিটি’ বা ‘বিষাক্ত মর্দানি’তে রূপ নেয়। সমাজ তাদেরকে শেখায় যে পুরুষত্ব প্রমাণের উপায় হলো রাগারাগি-মারামারি, নারীর ওপর কর্তৃত্ব প্রমাণ করা এবং মানবিক গুণগুলো দমিয়ে রাখা। এই পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতির মাধ্যমে নারীরা অন্য নারীদের ওপর সহিংসতার আশ্রয় নেয় না, কিন্তু পুরুষতন্ত্রের রীতিনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা অন্য নারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতার শিকার হওয়ার পর ভিকটিম নারীরা এই অপরাধগুলো মেনে নেওয়া, ‘পারিবারিক সম্মানের’ নামে গোপন করা বা নিজেদের দোষারোপ করে এই অপরাধগুলোকে সামাজিকভাবে ন্যায্যতা দিতে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে অন্য নারীরাও অবচেতনভাবে ভূমিকা রাখেন।
শিশুকাল থেকেই সমাজ লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা চাপিয়ে দেয়: ছেলেদেরকে বন্দুক-রাইফেল উপহার দেওয়া হয়, মেয়েদেরকে বার্বি ও কিচেন সেট দেওয়া হয়। ছেলেশিশুকে শেখানো হয় ‘মেয়েদের মতো’ করে না কাঁদতে, আর মেয়েদের শেখানো হয় ‘ছেলেদের মতো’ করে পা ছড়িয়ে না বসতে বা জোরে না হাসতে। এইভাবে সমাজের চোখে ‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার চেষ্টায় অবচেতনভাবে নারীরা নিজেদের ‘মেয়েমানুষ’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।
"পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতিগুলো কীভাবে নারী ও পুরুষ—উভয়ের কার্যকলাপের মাধ্যমে পুনরুৎপাদিত হয় এবং নারীর প্রতি সহিংসতার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, সে বিষয়েও আরও বেশি আলাপ করার প্রয়োজন আছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সামগ্রিক সমাজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উম্মে ওয়ারা, কেট ম্যান (কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সহযোগী অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ হাজার ৯১১টি অভিযোগ, ৬২ শতাংশ স্বামী/সঙ্গীর বিরুদ্ধে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!