📌 নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্য নিয়ে হাতিয়া উপজেলায় এনসিপি ও বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদল-যুবদলের মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্য নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদল-যুবদলের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনা সংঘটিত হয়। সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ সরকারি দ্বীপ কলেজে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাতিয়া উপজেলায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্য নিয়ে বিএনপি-ছাত্রদল ও এনসিপির মধ্যে মারামারি হয়, আটজন আহত হন
- 📌 দুপুর সাড়ে ১২টায় হান্নান মাসউদ উপজেলা পরিষদ ভবনের গেটে পৌঁছালে বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘেরাও করে, হাতাহাতি শুরু হয়
- 📌 সাইফুল ইসলাম (যুবশক্তির সদস্যসচিব), আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন, আজাদসহ অন্তত পাঁচজন ছাত্রদল-যুবদলের কর্মী আহত হন
- 📌 হান্নান মাসউদ দাবি করেন, পথে বিএনপির ক্যাডাররা হট্টগোল শুরু করে এবং তাঁর ঘাড়ে ঘুষি লাগে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, সংসদ সদস্যকে নিরাপদে বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক ও দলের কর্মী সমাবেশে বিএনপিকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, তাঁর বক্তব্যে দল সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর জেরে আজ হান্নান মাসউদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগদানের সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনের গেটে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘেরাও করেন। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ নিজেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাঁকে সভার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলেও সভাকালীন বাইরে আবার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। হান্নান মাসউদ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে আবার তর্কে জড়ান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।
হাতাহাতিতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন, আজাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে সংসদ সদস্যকে তাঁর বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।
"আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাচ্ছিলাম। পথে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির ক্যাডাররা হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। তাদের একটি ঘুষি আমার ঘাড়ে লেগেছে বলেও দাবি করছি।"
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য সভার দিকে যাওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিবেশ শান্ত করি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে গেটে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সম্পূর্ণ বিনা কারণে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এমপি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাঁর এই আচরণ ও উগ্রতার কারণেই ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এখানে দলের কোনো পূর্বনির্দেশনা ছিল না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাতিয়া উপজেলা পরিষদ, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল হান্নান মাসউদ, সাইফুল ইসলাম, আমিরুল হায়দার চৌধুরী, শামসুদ্দিন তিবরিজ, মো. কবির হোসেন, রাসেল ইকবাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ জন আহত, সাড়ে ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!