📌 প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ। এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় হবিগঞ্জ স্টাফ কোয়ার্টারে ছাত্রদলের হামলা। সারজিস সোনালী ব্যাংকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ—পুলিশ রাত ৮টায় উদ্ধার। নাসীরুদ্দীন সার্কিট হাউসে—পরে ঢাকায়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় ১৫ জন আহত। নাসীরুদ্দীনের বক্তব্য: বিএনপি ব্যর্থ। ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান: উসকানিমূলক বক্তব্য।
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন—তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- ভুক্তভোগী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক) ও সারজিস আলম (এনসিপি মুখ্য সংগঠক উত্তরাঞ্চল)।
- হামলাকারী: হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
- স্থান ও সময়: মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়।
- সারজিস আলম: সোনালী ব্যাংকে আশ্রয়—প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ; রাত ৮টায় পুলিশ উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে—পরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা।
- আহত: পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় প্রায় ১৫ জন; এনসিপির একজন কর্মীসহ।
- প্রেক্ষাপট: বিকেল ৫টায় হবিগঞ্জ টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশ—নাসীরুদ্দীন ও সারজিসসহ কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত।
- নাসীরুদ্দীনের বক্তব্য: বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ; বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত।
- ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান: এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ তৈরি করেছেন।
- এনসিপির অভিযোগ: বিএনপিকে দোষারোপ।
এনসিপি সমাবেশ ও হামলার সূত্রপাত
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন—আজ বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি জিপ গাড়িতে চড়ে সমাবেশস্থল থেকে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দেন। তাঁর গাড়িটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। গাড়িটি দ্রুতবেগে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সার্কিট হাউসে এসে আশ্রয় নেয়।
এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ির পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তখন সারজিসের গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে হবিগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেয়। এ সময় এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সারজিস আলম: এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ, পুলিশ উদ্ধার
সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করছেন—এ খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে ব্যাংকটি ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে রাত ৮টার দিকে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। তিনি এখনো সেখানে অবস্থান করছেন—বাইরে বিক্ষোধ করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার মুখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই নেতার গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে যাওয়া এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাতে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় আহত এনসিপির এক কর্মীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য: 'বিএনপি ব্যর্থ'
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জের কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন—বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন—বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেছেন—জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিপি তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
এই বক্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ—বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের অধীনে এনসিপি একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিএনপির সমালোচনা এবং ছাত্রদল (বিএনপির ছাত্র সংগঠন) এর হামলা—এই দুটি ঘটনা একটি রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। এনসিপি সম্ভবত নিজেকে বিএনপির বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে—যা ছাত্রদলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।
ছাত্রদলের অবস্থান: 'উসকানিমূলক বক্তব্য'
এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন এনসিপি নেতারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেছেন—এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এ পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাঁদের ওই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এই পাল্টা অভিযোগ দেখায় যে উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। এনসিপি বলছে বিএনপির ছাত্রদল হামলা করেছে—আর ছাত্রদল বলছে এনসিপির উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই ধরনের পাল্টা অভিযোগ সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণ—যেখানে প্রতিটি দল নিজের দায় এড়াতে অন্যকে দোষারোপ করে।
'এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এ পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাঁদের ওই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।'—জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!