📌 রাজশাহী গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় জামায়াতের দুই এমপি ক্ষুব্ধ। মাহফিলের আয়োজন বাতিলের পিছনে প্রশাসনিক অস্পষ্টতা ও আইনি সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় জামায়াতের দুই সংসদ সদস্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুফতি আমির হামজা ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়েছেন এবং ধর্মীয় মাহফিলের অধিকার সীমিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
- 📌 অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সরকারের মতো আচরণের স্মৃতিচিহ্ন তুলে ধরেছে।
- 📌 গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মাহফিলটি, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আয়োজকরা বাতিল করে দিয়েছেন।
- 📌 ১৩ ও ১৭ অক্টোবর তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানকে দু’বার আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাননি আয়োজকরা।
- 📌 রাজশাহী জেলা প্রশাসক বলেছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না পাওয়ায় অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনি।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে মানবকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে তাফসির মাহফিলের আয়োজন করা যেত। প্রধান আলোচক হিসেবে মুফতি আমির হামজার উপস্থিতি ছিল। তবে এলাকায় পোস্টার সাঁটানো, মাইকিং ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় মাহফিল বাতিল হয়।
মুফতি আমির হামজা রোববার রাতে তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে জানতে চান, কোনো আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের পিছনে কী আছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিলের অধিকার সীমিত করার অভিযোগ উঠেছিল। তিনি আশা করেছিলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত হবে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে ভিডিও বার্তায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, কুরআনের মাহফিল বন্ধের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সরকারের মতো আচরণের স্মৃতিচিহ্ন তুলে ধরেছে।
মাহফিলের অনুমতি চাওয়ার বিষয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। মানবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, তারা ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের কাছে আবেদন করেছিলেন। তবে ১৭ অক্টোবর আবার দাওয়াত দিতে গেলে ইউএনও জানান, কোনো আবেদন নেই। তিনি আরও বলেন, অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মাহফিল বাতিল করা হয়।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না পাওয়ায় অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনি। তিনি পরামর্শ দেন, বিষয়টি নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটির সাথে কথা বলা উচিত। ইসমাইল হক জানান, ইউএনও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলার সময় মাহফিলের আর বেশি সময় বাকি ছিল না। ফলে তারা আর জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেননি।
"প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, কোনো আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে ধর্মীয় এ মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোদাগাড়ী, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি আমির হামজা, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ইসমাইল হক, কাজী শহিদুল ইসলাম, ইসরাত জাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ অক্টোবর, ১৭ অক্টোবর, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!