📌 অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শাসক শ্রেণি ধর্ম, বর্ণ ও জাতির ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শাসকদের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিপীড়নের নজির তুলে ধরেন। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়
বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শাসক শ্রেণির মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে এবং তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই দাবি তোলেন শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে। তিনি বলেন, শাসক শ্রেণি ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও জাতির ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে তাদের শোষণ ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ শতাংশ শাসক শ্রেণি বিশ্বব্যাপী শোষণ ও নিপীড়নের সুবিধাভোগী, যারা যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 সামাজিক খাতে ব্যয়িত অর্থের শতগুণ বেশি অর্থ যুদ্ধ ও সামরিক খাতে ব্যয় করা হয়, যা জনগণের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করছে
- 📌 ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে বিশাল সামরিক বাহিনী গঠনের পেছনে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জীবন ও সম্পদ বিনিময়ে বৈশ্বিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রেরণা জোগাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে একত্রিত করছে
- 📌 সংহতি সমাবেশে ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয় এবং সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শাসক শ্রেণি সবসময় জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠতে না পায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শাসক শ্রেণিকে সমালোচনা করে বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থে সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সামাজিক বা খাদ্যনিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যয়িত অর্থের শতগুণ বেশি অর্থ যুদ্ধ ও সামরিক খাতে ব্যয় করা হয়।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি। সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান সংকট সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের সংকট। এই ব্যবস্থা মানুষের মৌলিক অধিকার ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমিয়ে অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দমন-পীড়ন চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও প্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের যেখানেই নিপীড়ন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম হবে, বাংলাদেশের মানুষের দায়িত্ব সেই আন্দোলনে সংহতি জানানো।
"রাষ্ট্র এবং জনগণ আলাদা, সরকার এবং জনগণ আলাদা, সরকার এবং শাসক শ্রেণির ঐক্যের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমাদের মুক্তি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় জাদুঘর, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, হারুন অর রশিদ, বেলাল চৌধুরী, জামশেদ আনোয়ার তপন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ শতাংশ (শাসক শ্রেণি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!