📌 গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ১০টি মূল প্রশ্নের উত্তর দিতে সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা পরামর্শক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসেনি। পরিবেশ আন্দোলনকারীরা সিরডাপ মিলনায়তনে সভা আয়োজন করে প্রশ্ন তুললেও কোনো সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত হননি
গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকারীরা উত্থাপিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কোথায়? সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা প্রকল্প প্রণয়নে জড়িত পরামর্শক সংস্থাগুলো এসব প্রশ্নের জবাব দিতে এগিয়ে আসেনি। পরিবেশ আন্দোলনকারীরা ২২ আগস্ট রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সভায় এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরলেন, কিন্তু সরকারি প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে সরকারি সংস্থা এগিয়ে আসেনি — গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রভাব নিয়ে উত্থাপিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পাউবো বা পরামর্শক সংস্থাগুলো কোনো পদক্ষেপ নেনি।
- 📌 গোপনীয়তার অভিযোগ — প্রকল্পের পরিকল্পনা ও তথ্য-উপাত্তের ওপর সরকারি গোপনীয়তা সৃষ্টি করেছে, যা পরিবেশ আন্দোলনকারীদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
- 📌 ভাটি ও উজান এলাকার প্রভাব কোথায়? — ব্যারাজের ভাটি ও উজান এলাকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়নি, যা প্রকল্পের বিরোধীদের প্রধান উদ্বেগ।
- 📌 পাউবোর অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার প্রশ্ন — প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো বাইরের পরামর্শক সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পাউবোর নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 আরটিআই আইনের লঙ্ঘন — পরিবেশ আন্দোলনকারীরা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও পরিশিষ্ট শেয়ার করার আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ সাড়া দেনি।
📰 বিস্তারিত
গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) ২২ আগস্ট রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সভা আয়োজন করে। সেখানে নজরুল ইসলাম ও মো. খালেকুজ্জামান গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ১০টি মূল প্রশ্ন তুলে ধরেন। প্রশ্নগুলো হলো:
- 🔹 এই ব্যারাজ প্রকল্পের ওপর কেন এত গোপনীয়তা?
- 🔹 ব্যারাজ কি শুধুমাত্র বর্ষাকালীন পানি শীতকালে ব্যবহার করবে?
- 🔹 ভাটি এলাকার ওপর ব্যারাজের প্রভাব কোথায়?
- 🔹 গঙ্গার বর্ষাকালীন প্রবাহ এখন শাখাগুলোয় কেন প্রবাহিত হয় না?
- 🔹 দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতার সমস্যা কোথায়?
- 🔹 ব্যারাজের উজানে পলি পতন, বন্যা ও পাড়ভাঙনের সম্ভাবনা কত?
- 🔹 পাংশা উপজেলার ব্যারাজের উপকারিতা কত নির্ভরযোগ্য?
- 🔹 ব্যারাজ কি গঙ্গার পানি ভাগাভাগির ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল করবে?
- 🔹 এত পুরোনো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রকল্প কেন?
- 🔹 বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে এত বড় বাজেটের প্রকল্প গ্রহণ কি যুক্তিসঙ্গত?
সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রকল্প প্রণয়নে জড়িত পরামর্শক সংস্থাগুলো এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে এগিয়ে আসেনি। বাপা ও বেনের সভায় পাউবোর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিজাইন কাজে জড়িত ডিসিসি, আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস ও ডেটা এক্স নামের সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি দুজন সভায় উপস্থিত হলেও, তাদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিইজিআইএসের সাবেক প্রধান ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ভাটি এলাকার প্রভাব নিয়ে বাস্তবায়ন-সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সভায় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিশিষ্ট শেয়ার করেননি।
আইডব্লিউএমের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন পড়েননি। তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীরা জানান, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সমীক্ষা ও পরিশিষ্ট শেয়ার করার আবেদন করেছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাড়া দেনি। এছাড়া, আরটিআই আইনের অধীনে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি তথ্য শেয়ার করা হয়নি।
"ভাটি এলাকার প্রভাব নিয়ে বাস্তবায়ন-সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু আমি পরিশিষ্ট শেয়ার করব না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম, মো. খালেকুজ্জামান গঙ্গা, সিইজিআইএসের সাবেক প্রধান, আইডব্লিউএমের প্রতিনিধি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি প্রশ্ন, ২২ আগস্ট (সভার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!