📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জ্বালানি সংকটের সমাধানে সরকারকে সংস্কারের পথে যেতে বলেছেন। তিনি সরকারের ব্যর্থতা, সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা ও জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। বিক্ষোভ মিছিলে তিনি বলেছেন, সংস্কার ছাড়া সরকারের বৈধতা নেই এবং জনগণ তাদের রাস্তায় ধাওয়া দেবে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জ্বালানি সংকটের সমাধানে সরকারকে সংস্কারের পথে যেতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে আয়োজিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব নয় — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারকে সংস্কারের পথে যেতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সংস্কার না হলে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অমিতের মতো কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
- 📌 বিশ্ববাজারের সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা — নাসীরুদ্দীন বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট থাকলেও বাংলাদেশের সরকার তা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 ১১ দলীয় জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান — তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারের কাছে বিরোধীদলীয় জোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি।
- 📌 জনগণের আতঙ্ক ও সরকারের সমালোচনার ভয় — পেট্রল পাম্পে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অনেকেই ভয়ে কথা বলতে চাননি। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
- 📌 সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা ও শেখ হাসিনা-তারেক রহমানের তুলনা — তিনি বলেছেন, ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের দুর্নীতির অভিযোগের মতো বর্তমান সরকারও সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে। তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "শেখ হাসিনার অপরাধে যদি তারেক দোষী হন, তাহলে তিনি কী বৈধতার বলে ক্ষমতায় থাকবেন?"
- 📌 গতকালের ঘটনা ও দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন — নাসীরুদ্দীন বলেছেন, সরকারের দাবি যে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা জোগাড় করার জন্য দাম বাড়ানো হয়েছে, তা যুক্তিসঙ্গত নয়।
- 📌 সংস্কার না হলে সরকারের বৈধতা নেই — তিনি বলেছেন, সংস্কার না হলে সরকারের বৈধতা নেই এবং জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে।
- 📌 ১১ দলীয় জোটের শক্তি নিয়ে সতর্কবার্তা — তিনি বলেছেন, সরকার যদি মনে করে ১১ দলীয় জোট তাদের কী করবে, তাহলে ভুল করবে। জনগণই তাদের রাস্তায় ধাওয়া দেবে।
- 📌 চব্বিশের প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা — তিনি উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মতো নতুন সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকদের জনগণ কখনো সহ্য করবে না।
📰 বিস্তারিত
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশে যদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে একটাই সমাধান—সংস্কারের পথে যেতে হবে। সংস্কারের পথে গেলে অমিতের মতো কেউ বিদ্যুৎ বা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না।"
নাসীরুদ্দীন বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট রয়েছে, কিন্তু সরকার তা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা এনসিপি থেকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমাদের বিরোধীদলীয় জোটের প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু সরকার সে পথে যায়নি।" তিনি আরও বলেছেন, "গতকাল পেট্রল পাম্পে সাধারণ পথযাত্রী, মোটরসাইকেল চালক, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও উবারচালকদের সঙ্গে সাংবাদিকেরা কথা বলেছেন। তাঁদের অনেকেই ভয়ে কথা বলতে চাননি।"
নাসীরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে 'সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার' অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, "২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের সময়কার বিএনপি সরকারকে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।" তিনি তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দেখিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, "শেখ হাসিনার অপরাধে যদি তারেক দোষী হন, তাহলে তিনি কী বৈধতার বলে ক্ষমতায় থাকবেন?"
নাসীরুদ্দীন আরও বলেছেন, "সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এনসিপি রাজপথে নেমেছে। উবারচালক, পাঠাওচালক, পরিবহন খাতের মানুষসহ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা আন্দোলনে এসেছেন।" তিনি বলেছেন, "সংস্কার না হলে সরকারের বৈধতা নেই। বৈধতা নেই বলেই সরকার জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে।"
মিছিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক ঋআজ মোর্শেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলটি রাত আটটার দিকে বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে পরীবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল।
"আমরা আট দফা দাবিতে লং মার্চ করেছিলাম। আমরা বলেছি, এই ব্যর্থ সরকারের সামনে একটাই পথ আছে—এক দফা দাবি। সরকার যদি মনে করে ১১ দলীয় জোট তাদের কী করবে, তাহলে ভুল করবে। জনগণই তাদের রাস্তায় ধাওয়া দেবে। কারণ জনগণের পেটে তারা লাথি দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলামোটর, রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার, পরীবাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ইসহাক সরকার, ফরহাদ সোহেল, ঋআজ মোর্শেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ দলীয় জোট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!