📌 জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনা ছাড়াই নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা হলে কেন্দ্র বাধা দেবে না। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দলের নেতারা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা ছাড়াই নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে গেলে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাধা দেবে না। এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেছেন, ‘ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি এলাকার বাস্তবতা আলাদা। সামাজিক অ্যালায়েন্সের সুযোগ থাকলে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনা অনুসরণ করা কঠিন।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সমঝোতা ছাড়াই নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এনসিপি
- 📌 স্থানীয় সমঝোতা হলে কেন্দ্র বাধা দেবে না — একেক এলাকার বাস্তবতা অনুযায়ী সমঝোতা করা যেতে পারে
- 📌 প্রার্থী বাছাই চলছে — জেলা কমিটিগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে
- 📌 চলতি মাসে কিছু ইউপির প্রার্থী ঘোষণা — প্রথম ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে
- 📌 নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা — বর্তমান সরকার দলীয়করণের দিকে মনোনিবেশ করছে
- 📌 জামায়াতের মতো ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে
📰 বিস্তারিত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া এনসিপি দলটি প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। তবে দেশের সব ইউপিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি এলাকার বাস্তবতা আলাদা। সামাজিক অ্যালায়েন্সের সুযোগ থাকলে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনা অনুসরণ করা কঠিন। একেক জায়গার বাস্তবতা একেক রকম। সেখানকার বাস্তবতা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা হলে সে বিষয়ে কেন্দ্র বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’
এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, এখন পর্যন্ত কতটি ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। জেলা কমিটিগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর পর পর্যায়ক্রমে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে চলতি মাসের মধ্যে দেশের সব ইউপিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেই।
প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করবে জেলা কমিটিগুলো। তাদের পাঠানো নাম যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এছাড়া সব ইউপি প্রার্থীকে ঢাকায় এনে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
"ইউপি নির্বাচন সবাই যার যার সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী করবে। কারণ, ওখানে বাস্তবতা অন্য রকম। সামাজিক অ্যালায়েন্স হয়। এভাবে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনায় সমঝোতা করাটা কঠিন।"
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা চলছে। এটা অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সমঝোতা ছাড়াই নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা হলে কেন্দ্র বাধা দেবে না। এনসিপির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের দিকে মনোনিবেশ করছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কেন্দ্রীয় পর্যায়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সারোয়ার তুষার (পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য), নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (দলীয় জোট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!