📌 বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বৈশ্বিক ঝুঁকি ও স্বৈরাচার পতনের পরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় নয়; প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও তরুণদের ভূমিকা নিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বৈশ্বিক ঝুঁকি ও স্বৈরাচার পতনের পরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক করেছেন ড. আলী রীয়াজ। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে না। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখলে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিধি সংকুচিত হয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণতন্ত্রের পতন থেকে উত্তরণে নির্বাচন যথেষ্ট নয় — ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, নির্বাচনেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না; প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন।
- 📌 বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব — হরমুজ প্রণালি ও বাব-এল-মান্দেবের উত্তেজনা থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
- 📌 ৬০% মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে — বিশ্বের ৬০% মানুষের অধীনে স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
- 📌 তরুণদের ভূমিকা ও শিক্ষা — ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, তরুণদের প্রধান অস্ত্র হওয়া উচিত যুক্তি, প্রশ্ন করা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ — নয় শারীরিক শক্তি বা ঔদ্ধত্য।
- 📌 বাংলাদেশের উদাহরণ — মাদাগাস্কার, সুদান ও তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগোতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে নির্বাচনকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখলে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিধি সংকুচিত হয়ে পড়ে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, নির্বাচনেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না; প্রকৃত উত্তরণ ঘটে নাগরিকের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে।
ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘আমরা কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি মানেই রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশীদারত্ব পেয়ে গেলাম—বিষয়টি এমন নয়। অংশীদারত্ব তখনই তৈরি হয়, যখন নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।’ তিনি আরও বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ মানুষের বৈষম্য প্রতিরোধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকারীদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা এখন তীব্র ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের দ্বিমেরুকেন্দ্রিক এবং পরবর্তীকালের একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এখন একটি বহুমুখী ও অস্থির রূপ ধারণ করেছে। তিনি বলেছেন, এই বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি স্থানীয় বাজার ও পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রভাব কেবল নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।
তরুণদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তরুণদের প্রধান অস্ত্র হওয়া উচিত যুক্তি, বলপ্রয়োগ বা শারীরিক শক্তি নয়। শিক্ষাজীবনে ‘কেন’ প্রশ্ন করার প্রবণতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যুক্ত হওয়ার পর প্রশ্ন করার অভ্যাস কমে যায়। তিনি বলেছেন, প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে তরুণদের ক্রমাগত ‘কেন’ প্রশ্ন করে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘তারুণ্যের সাহস প্রশংসনীয়, কিন্তু সেই সাহস যেন কোনোভাবেই ‘ঔদ্ধত্যে’ পরিণত না হয়।’
"আমরা কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি মানেই রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশীদারত্ব পেয়ে গেলাম—বিষয়টি এমন নয়। অংশীদারত্ব তখনই তৈরি হয়, যখন নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. আলী রীয়াজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ বিশ্ববাসী স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!