📌 জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তারা বলেছেন, কমিশনের স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং সরকারের চাপে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ নয়। এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, জনগণ মেনে নেবে না এমন অবস্থায় তারা রাজপথে প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করতে পারে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে। দলটির নেতারা মন্তব্য করেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করতে পারছে না এবং সরকারের চাপে পড়ে মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এনসিপি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার অভাবের কথা তুলে ধরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেছে এনসিপি
- 📌 স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো জ্ঞান নেই’
- 📌 নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মনে করে পাল্টা মন্তব্য করেননি
- 📌 সরকারের চাপে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে চরম খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে
- 📌 নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে
- 📌 এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয়, তবে তারা রাজপথে প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করবে
📰 বিস্তারিত
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পরপরই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য ছিল ‘এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি’। এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না’। এনসিপি নেতারা মন্তব্য করেছেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে কমিশনের মেরুদণ্ডহীনতা উন্মোচিত হয়েছে। তারা বলেছেন, সরকারের প্রভাবে কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে চরম খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম গ্যারান্টিও ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচন কমিশনকে পকেটে পুরে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা মূলত ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চারই প্রতিফলন। এছাড়া, সরকার তাদের দলের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা করছে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো মেরুদণ্ডহীন ও সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে জনগণ মেনে নেবে না। তারা বলেছেন, সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালিত করতে অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটে, তবে এনসিপি দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে।
"একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকবে—এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন আজ সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মীর শাহে আলম (প্রতিমন্ত্রী), আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (কমিশনার), আখতার আহমেদ (সচিব), এনসিপি নেতারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ (মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!