📌 সাইবার নিরাপত্তা আইনের নতুন সংশোধনী খসড়ায় 'আশঙ্কা'-শব্দের সংযোজন এবং অস্পষ্ট সংজ্ঞা বাকস্বাধীনতাকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ২০১৮-২৩ সালের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪ হাজারাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিক। সংশোধনীতে মানহানির সংজ্ঞা প্রসারিত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে সাইবার নিরাপত্তা আইনের নতুন সংশোধনী খসড়ার কারণে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের স্মৃতি এখনো মনে আছে, যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হত। এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী খসড়ায় 'আশঙ্কা'-শব্দের সংযোজন এবং অস্পষ্ট সংজ্ঞা বাকস্বাধীনতাকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি ২০১৮-২৩ সালের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলায় জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ছিল রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, লেখক ও সাধারণ নাগরিক।
- 📌 সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী খসড়ায় 'আশঙ্কা'-শব্দ যুক্ত করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে যেকোনো মতপ্রকাশকে 'আশঙ্কাজনক' বলে চিহ্নিত করার সুযোগ দিচ্ছে।
- 📌 ৮(২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো তথ্য 'দেশের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করিবার আশঙ্কা' থাকে, তাহলে তা ব্লক বা অপসারণ করা যাবে।
- 📌 মানহানির সংজ্ঞা প্রসারিত করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও আটকে ফেলার সুযোগ তৈরি করেছে।
- 📌 ২৫ নম্বর ধারা সংশোধন করে 'মানহানিকর তথ্য' যুক্ত করা হয়েছে, যা যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলিং প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্যকে অস্পষ্ট করেছে।
📰 বিস্তারিত
সহুল আহমদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে বাকস্বাধীনতা হরণের ইতিহাস আমরা এখনো ভুলতে পারিনি। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাড়ে চার হাজারাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, লেখক, কার্টুনিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কৃষক এবং সাধারণ নাগরিক। এই আইনের অধীনে বেশিরভাগ মামলা করেছিলেন সরকারি দলের লোক ও রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খোলস বদলানো হলেও মূল নিপীড়নমূলক কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও, সংশোধনী খসড়ায় 'আশঙ্কা'-শব্দের সংযোজন বাকস্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে। ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো তথ্য 'দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করিবার আশঙ্কা' থাকে, তাহলে তা ব্লক বা অপসারণ করা যাবে। এই সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা থাকলেও, 'আশঙ্কা'-শব্দের সংযোজন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারকে এতটা বিস্তৃত করেছে যে যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডকেই 'আশঙ্কাজনক' বলে চিহ্নিত করা যাবে।
এছাড়া, ৮(২) ধারায় নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে 'কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মানহানিকর বা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর' তথ্য ব্লক করার প্রস্তাব। এই সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকায়, সরকারের যেকোনো সমালোচনাই রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর বলে চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। ২৫ নম্বর ধারায় যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলিং প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে 'মানহানিকর তথ্য' এবং 'হেয়প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়'। এই সংজ্ঞা প্রসারিত করে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও সহজেই আটকে ফেলা যাবে।
"গুজব বা অপতথ্য রোধ করার জন্য প্রয়োজন আরও বেশি পেশাদার ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর বাড়ানো। উল্টো সরকার যদি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে যায়, তাহলে সমাজে গুজব ছড়ানো বা গুজবে বিশ্বাস করার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহুল আহমদ, নাগরিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজারাধিক মামলা (২০১৮-২৩), ধারা ৮(২), ধারা ২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!