📌 সংবিধান সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে বড় সংস্কার ছাড়া ছোটখাটো সংশোধন যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। জুলাই সনদে সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক চলছে।
সংবিধান সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে বড় সংস্কার ছাড়া ছোটখাটো সংশোধন যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবায়নে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না কেউ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আলী রীয়াজ বলেছেন, বড় সংস্কার ছাড়া ছোটখাটো সংশোধন দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
- 📌 রাষ্ট্র সংস্কারের মূল জায়গা হলো সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা।
- 📌 জুলাই সনদে সুনির্দিষ্ট করা বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক চলছে।
- 📌 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে করেন আলী রীয়াজ।
- 📌 সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয়।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবায়নে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। আলী রীয়াজ বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তারা আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশাটা এখনো আছে। সাধারণ মানুষ হয়তো সুস্পষ্টভাবে সংবিধানের ধারা বলতে পারবে না, কিন্তু তারা বুঝতে পারেন যে যদি আগের মতোই ব্যবস্থাটা থাকে তাহলে ভিন্ন কিছু আশা করা যাবে না।”
আলী রীয়াজ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছিল। লম্বা সময় নিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো বিতর্ক হচ্ছে কী সংস্কার দরকার এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির মধ্য দিয়ে যেসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মোটামুটি ঐকমত্য আছে। কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্নমত আছে, কিন্তু মূল জায়গা বিবেচনা করলে এখনকার আলোচনা অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। কারণ এজেন্ডা সুস্পষ্ট। কী করতে হবে, আমরা জানি। এখন সবটাই আপনি যদি বাস্তবায়ন করতে না চান, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনা করেই সেটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা জনগণের কাছে নেওয়া হয়েছিল। সাত কোটি মানুষ এ বিষয়ে মত দিয়েছে। তাদের মত আপনাকে গ্রাহ্য করতে হবে।”
আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত থাকলেও, জনগণের মতের ওপর তা প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, “আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট থাকলে এটা কি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে? এটা বাস্তবায়ন হবে। রাজনৈতিক আলোচনায় নোট অব ডিসেন্টের অর্থ হচ্ছে ‘একমত না’। কিন্তু জনগণ যদি আপনাকে বলে দেয় তখন? এটা এমন যদি হতো যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর চুক্তির মধ্যেই আছে, তা তো নয়। আমরা আগেই বলেছিলাম, মানুষ যদি না চায় সংস্কার হবে না। সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলেছি। কারণ, যেসব সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে, এগুলোতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন হবে। সেগুলো সুরক্ষার ব্যবস্থা কী আছে? এটা কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রায় সব দল নিঃসন্দেহে বলেছিল যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে হবে। কেননা, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানের মধ্যে আপনি সংসদকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে পারেন না। ওই আলোচনায় বিএনপি কি একমত হয়েছিল বা ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির যে অবস্থান ছিল এখন দলটির অবস্থানে কোনো তফাত কি আপনার চোখে পড়ে?”
"আমরা মনে করি না, অন্ততপক্ষে আমি প্রক্রিয়ার অংশীদার হিসেবে বলব যে এটার মধ্যে আমরা মৌলিক কোনো ত্রুটি দেখিনি। নোট অব ডিসেন্ট থাকতেই পারে। আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট থাকলে এটা কি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে? এটা বাস্তবায়ন হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী রীয়াজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ), ১১ (জুলাই সনদ অনুচ্ছেদ), ১৪২ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!