📌 সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন সংবিধান সংশোধনে সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ পড়লে দেশের বৈষম্য নিরসন ও বহুত্ববাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি জুলাই সনদে বৈষম্য নিরসনের স্পষ্ট বিধান না থাকার ও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির দিকে নির্দেশ করেছেন
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ পড়লে বাংলাদেশের বৈষম্য নিরসন ও বহুত্ববাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না—এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদে বৈষম্য নিরসনের স্পষ্ট বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এছাড়াও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ও বহুত্ববাদের অনুপস্থিতি সংবিধান সংশোধনের মূল লক্ষ্যমাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংবিধান সংশোধনে সুরক্ষামূলক বিধান বাদ পড়লে বৈষম্য নিরসন ও বহুত্ববাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না—সারা হোসেনের সতর্কবার্তা
- 📌 জুলাই সনদে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানভিত্তিক বৈষম্য নিরসনের স্পষ্ট বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি
- 📌 সংবিধান সংশোধন কমিটিতে ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন উপস্থিত—বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং কমিটিতে সবাই বাঙালি ও মুসলমান—বহুত্ববাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি
- 📌 কোটা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সব ধরনের কোটা কি উঠিয়ে দেওয়া দরকার? সারা হোসেনের প্রশ্ন
- 📌 ৫ আগস্টের আশা থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে হোঁচট খেয়েছে—কিন্তু সম্পূর্ণ হতাশ হওয়ার দরকার নেই—সারা হোসেনের মন্তব্য
📰 বিস্তারিত
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ পড়লে বাংলাদেশের বৈষম্য নিরসন ও বহুত্ববাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না—এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ বা জন্মস্থানভিত্তিক বৈষম্য নিরসনের স্পষ্ট বিধান থাকলেও জুলাই সনদে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, সংবিধানে বৈষম্য নিরসন ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা আছে, কিন্তু জুলাই সনদে তা যথাযথভাবে জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
সারা হোসেন ‘গণ–অভ্যুত্থানের জন–আকাঙ্ক্ষা ও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সাংবিধানিক বহুত্ববাদ’ শীর্ষক সেমিনারে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করতে গিয়ে যেন সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ না পড়ে যায়। তিনি জুলাই সনদে কত দূর কী পেয়েছি, সংবিধানে কত দূর কী পেয়েছি—এটা যাচাই করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই অবস্থা চাই না যে একটা সংশোধন করতে গিয়ে আমরা অনেক কিছু ফেলে দেব, যেগুলো আমাদেরকে আসলে সুরক্ষা দেয়’।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ও বহুত্ববাদের অনুপস্থিতি সারা হোসেনের কাছে একটি বড় চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন উপস্থিত—বিরোধী দলের অনুপস্থিতি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেখানে সবাই বাঙালি, সবাই মুসলমান—এখানে বহুত্ববাদের যে প্রতিশ্রুতি, তা রাখা হয়নি’। তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত—সেখানে বহুত্ববাদের চর্চা তেমনভাবে নেই’।
কোটা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সারা হোসেন বলেন, ‘সব ধরনের কোটা কি আসলে উঠিয়ে দেওয়া দরকার?’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা একধরনের কোটার বিরুদ্ধে সবাই লড়াই করেছি জুলাইয়ে, কিন্তু সব ধরনের কোটা কি আসলে উঠিয়ে দেওয়া দরকার?’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হতাশ হওয়ার অনেক কারণ আছে, কিন্তু আমরা যে জায়গায় ছিলাম, অবশ্যই আমরা সেই জায়গাটাতে নেই’। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আশা থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে হোঁচট খেয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ হতাশ হওয়ার দরকার নেই।
কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান ও নৃবিজ্ঞান অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদের মতে, সংবিধানে কী লেখা থাকল বা বিশেষ কমিটিতে সংবিধান সংশোধনে কী সংযোজন-বিয়োজন হলো, তা দিয়ে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত হবে না বা তাদের বঞ্চনার অবসান হবে না। তারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক সমস্যা হচ্ছে ভূমির সমস্যা, মালিকানার সমস্যা’।
"আমরা এই অবস্থা চাই না যে একটা সংশোধন করতে গিয়ে আমরা অনেক কিছু ফেলে দেব, যেগুলো আমাদেরকে আসলে সুরক্ষা দেয়। তার মধ্যে এই যে বৈষম্য নিরসন করার ব্যাপারটা, এটা যতটা জোরালোভাবে সংবিধানে এসেছে, আমার মতে এটা কিন্তু জুলাই সনদে অত জোরালোভাবে আসেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা (বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র), চট্টগ্রাম (পার্বত্য অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সারা হোসেন (সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী), সোহরাব হাসান (কবি ও সাংবাদিক), বখতিয়ার আহমেদ (নৃবিজ্ঞান অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ জন (সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য), ১২ জন (বর্তমান সদস্য), ৫ আগস্ট (আশার দিন), ৫০ বছর (সমাধান হয়নি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!