📌 বরিশালের খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসায় বর্তমান সভাপতি মুফতি ফয়জুল করীমের পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন ও চরমোনাই পীরের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, চাঁন জোরপূর্বক সভাপতি হতে চাচ্ছেন যা নিয়মবহির্ভূত। অন্যদিকে চাঁন দাবি করেন, তাঁকে ২০১৮ সালে বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং তিনি মাদ্রাসার তহবিলে ৭০ লাখ টাকা রাখেন
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসায় সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপি নেতা ও চরমোনাই পীরের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁনের দাবি ও জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ জোরদার হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসায় বর্তমান সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পদে বিএনপির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন জোরপূর্বক দাবি করছেন
- 📌 মাদ্রাসার মুহতামিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিমের অভিযোগ, চাঁন দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় মহড়া দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন
- 📌 চাঁন দাবি করেন, ২০১৮ সালে তাঁকে পুলিশের হস্তক্ষেপে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং তিনি মাদ্রাসার তহবিলে ৭০ লাখ টাকা রাখেন
- 📌 মাদ্রাসার সভাপতি ফয়জুল করীম বলেছেন, সংবিধান ও নিয়মের বাইরে কেউ সভাপতি হতে চাইলে প্রশ্ন দেখা দেবে
- 📌 বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, মাদ্রাসায় অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল এবং নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বরিশালের বাজার রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসায় বর্তমান সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পদ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিমের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন আজ রোববার বিকেলে দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় মহড়া দিয়েছেন। তিনি জুমার নামাজ আদায় করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী একজন আলেমই সভাপতি হতে পারেন। তবে চাঁন নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক সভাপতি হতে চাচ্ছেন। ২০১০ সাল থেকে মুফতি ফয়জুল করীম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২১ সদস্যের কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা করছে। চাঁন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সভাপতি হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তিনি বাজার রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হলেও মাদ্রাসার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন।
বিপরীতে, বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চাঁন দাবি করেছেন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, গত শুক্রবার তিনি মাদ্রাসায় জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। মুহতামিম আব্দুল হালিমের জুমার বয়ানে সরকারের সম্পত্তি বণ্টন আইন নিয়ে সমালোচনা করার পর তিনি মুহতামিমকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, মাদ্রাসায় রাজনীতি করা যাবে না। তিনি দাবি করেন, সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা নেই এবং তিনি সভাপতি থাকাকালীন মাদ্রাসার তহবিলে ৭০ লাখ টাকা রাখেন।
মাদ্রাসার সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘দেশে সংবিধান ও নিয়ম আছে। এর বাইরে কেউ মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে প্রশ্ন দেখা দেবে। এখন একজন ব্যক্তি জোর করে সভাপতি হতে চান। হঠাৎ করে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে মাদ্রাসা দখল করবে, এটা ঠিক নয়। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
"দেশে সংবিধান আছে, পদ্ধতি আছে। এর বাইরে কেউ মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে প্রশ্ন দেখা দেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের বাজার রোড, খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, এবায়েদুল হক চাঁন, মো. আব্দুল হালিম, আল মামুন উল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ সদস্যের কমিটি, ৫ আগস্ট ২০২৪, ৭০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!