📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্রদলের রক্তাক্ত সংগ্রামের কারণে তাদেরকে আর ‘সুপ্ত’ বা ‘গুপ্ত’ বলা যাবে না। তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকীতে এই মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আবরারের শহীদী আত্মদানই ছিল শেখ হাসিনার পলায়নের কারণ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আজ ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বলেছেন, ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলে তাদেরকে আর ‘সুপ্ত’ বা ‘গুপ্ত’ বলা যাবে না। এই সভায় শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রিজভী বলেছেন, আবরার ফাহাদের শহীদী আত্মদানই ছিল শেখ হাসিনার পলায়নের কারণ
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’ — দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদই ছিল আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আবরার ফাহাদের হত্যা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে সহায়তা করেছিল
- 📌 ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করতে হবে
- 📌 তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আত্মদানের এক চূড়ান্ত ফলাফলই শেখ হাসিনার পলায়ন, বলেছেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাঁকে ফ্যাসিস্টের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।’
রিজভী চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সাথে আবরার ফাহাদের শহীদী আত্মদানের যোগসূত্র টেনে বলেন, এই জাতির রক্তের কণায় কণায় বিদ্রোহের স্রোত বইছে, যা শেখ হাসিনা শত গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েও স্তব্ধ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আবরারের সেই শহীদী আত্মদানেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে চব্বিশের জুলাই ও ৫ আগস্টে, যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলে তাদেরকে আর ‘সুপ্ত’ বা ‘গুপ্ত’ বলা যাবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার একটা সিগন্যাল দিতে চেয়েছিল যে, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু আনফরচুনেটলি তা ব্যাক ফায়ার করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে যেসব ঘটনা সাহায্য করেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদত অন্যতম কারণ ছিল। ওই নির্মম অত্যাচারই সাধারণ মানুষকে ওই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ছাত্রদলের যে নেতা-কর্মীরা আছেন, তাঁদের অনুরোধ করব, আমরা যেন মানবিক বোধটা হারিয়ে না ফেলি। এই মানবিক বোধটা যখনই আমরা হারিয়ে ফেলি, তখনই আবরার ফাহাদের যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেই ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ১৬ বছর অনেক জুলুম এবং অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেছে। তারা যে জুলুম ভোগ করেছে, সেটাকে শক্তিতে পরিণত করে এই রাষ্ট্রকে সফল করতে হবে। এই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে এবং সেই এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে থেকেই আসবে।’
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরও আমরা এক দিনের জন্যও রাজপথ ছাড়িনি।’
রাকিব বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। ছাত্রদল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো সেই আপসহীন পথেই রয়েছে। আমরা কখনো এই দেশে ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না এবং আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’
"বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রাকিবুল ইসলাম রাকিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.০ টা (বিকেল সাড়ে ৩টায়), ৫.০ (আগস্টে), ১৬.০ (বছর), ১৫.০ (বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!