📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বলেছেন, দেশ ও জাতির প্রশ্নে কখনোই আত্মসমর্পণ করবেন না। তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সভায় উপস্থিত হয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করা হবে না
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় দেশ ও জাতির প্রশ্নে আত্মসমর্পণ করবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। সভায় তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করা হবে না। সভাটি আয়োজিত হয়েছিল শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এবং সেখানে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যার ঘটনাটি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রিজভী বলেছেন, "দেশ ও জাতির প্রশ্নে কখনোই আত্মসমর্পণ করব না" — গণতন্ত্রের লড়াই অব্যাহত থাকবে
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, ২৪ জুলাই ও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের ভূমিকা ছিল আবরার ফাহাদের শহীদী আত্মদান
- 📌 বাংলায় প্রবাদ উল্লেখ করে বলেছেন, "বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী" — দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে লড়াই অব্যাহত থাকবে
- 📌 ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী এবং আজও "সুপ্ত" নয়
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আবরার ফাহাদের হত্যা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে সহায়তা করেছিল
- 📌 ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার এবং আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানান
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, "আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি, সবকিছু করছি, কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমরা আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের ভূমি রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।" তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যার ঘটনাটি তুলে ধরেন এবং বলেন, "দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই অপরাধেই তাকে ফ্যাসিস্টদের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।"
রিজভী ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোগসূত্র টেনে বলেন, এই জাতির রক্তের কণায় কণায় বিদ্রোহের স্রোত বইছে, যা শেখ হাসিনা শত গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েও স্তব্ধ করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আবরারের সেই শহীদী আত্মদানেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ২৪-এর জুলাই ও ৫ আগস্টে। যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে ভীত শৃগালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "বাংলায় প্রবাদ আছে-‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’। দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদই ছিল আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ।"
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, "বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ 'সুপ্ত' কিংবা 'গুপ্ত' বলতে পারে না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার একটা সিগন্যাল দিতে চেয়েছিল যে, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু আনফরচুনেটলি তা উল্টো ব্যাকফায়ার করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে যেসব ঘটনা সাহায্য করেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদাত বরণ অন্যতম কারণ ছিল।" তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "ছাত্রদলের যে নেতাকর্মীরা আছেন তাদেরকে অনুরোধ করব, আমরা যেন মানবিক বোধটা হারিয়ে না ফেলি। এই রাষ্ট্রকে সফল করতে হবে এবং সেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই আসবে।"
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা কখনো এই দেশে ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না এবং আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।"
"দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই অপরাধেই তাকে ফ্যাসিস্টদের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিনেট ভবন সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রাকিবুল ইসলাম রাকিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর, ৩:৩০ টা, ২৪ জুলাই, ৫ আগস্ট, ১৬ বছর, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!