📌 রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এনসিপির আলোচনা সভায় সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীকে 'ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ' হিসেবে সমালোচনা করা হয়। সংশোধনীতে অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও ব্যাপকতা বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে বলে আশঙ্কা উঠেছে
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীকে 'ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ' হিসেবে সমালোচনা করা হয়। বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- 📌 আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের ঘটনা উল্লেখ করে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের সংশোধনী নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
- 📌 সাবেক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেছেন, গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলার জন্য বিদ্যমান আইনি কাঠামো যথেষ্ট, নতুন সংশোধনী সঠিক নয়।
- 📌 ডেইলি ওয়াদা’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, সংশোধনীতে বিচারিক অনুমোদন ছাড়াই কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া উদ্বেগজনক, যা সাধারণ নাগরিকদেরও আইনি হয়রানির শিকার হতে পারে।
- 📌 এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি আসলে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে, যা বিদ্যমান আইনে সম্ভব না হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী: বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে। সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু সরকারের সমালোচনা করলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে সাধারণ নাগরিকদেরও হয়রানি করা হতে পারে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে অস্পষ্টতা থাকায় এর অপপ্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি। বিএনপির দুর্ভাগ্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে তারা যে কালাকানুন তৈরি করছে, সেটার অপপ্রয়োগের প্রধান শিকারে পরিণত হতে পারে তারা নিজেই।
সাবেক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, উসকানি ঠেকানো, নারী ও শিশুদের হয়রানি প্রতিরোধ ও অপতথ্য মোকাবিলার জন্য সরকারের যুক্তি সঠিক নয়। বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে এসবের প্রতিকার রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংশোধনীতে গুজবসহ অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি, ফলে এটিকে অপব্যবহারের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি, তবে তা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে।
ডেইলি ওয়াদা’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সংশোধনীতে বিচারিক অনুমোদন ছাড়াই কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া উদ্বেগজনক। এর ফলে শুধু সাংবাদিক নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকেরাও আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর প্রশ্ন তোলেন যে, আইনটি আমলাতান্ত্রিক নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, আইনটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, বিএনপি আসলে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ কায়েম সম্ভব না হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের মধ্যে একটা দুর্বল আওয়ামী খাসলত দেখা যাচ্ছে।
"সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আখতার হোসেন, নাবিলা ইদ্রিস, মজিবুর রহমান মঞ্জু, ফয়সাল মাহমুদ, সারোয়ার তুষার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (একটি আলোচনা সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!