📌 ১২১তম বঙ্গভঙ্গ দিবসে বিএনপি কোনো কর্মসূচি না করার জন্য জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) সমালোচনা করেছে। জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, বঙ্গভঙ্গ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এর স্মরণ না করা ইতিহাসের প্রতি উদাসীনতার পরিচয়
১২১তম বঙ্গভঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না করার জন্য জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) তীব্র সমালোচনা করেছে। জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ দাবি করেছেন, বঙ্গভঙ্গ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এর স্মরণ না করা ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি উদাসীনতার পরিচয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার জেডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নাঈম আহমাদ বলেছেন, বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও বঙ্গভঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে কোনো কর্মসূচি না করার কারণে ইতিহাসের প্রতি উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এবং ঢাকাকে রাজধানী করার মাধ্যমে অঞ্চলের প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- 📌 নাঈম আহমাদ বলেছেন, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের ধারা থেকেই পরবর্তীকালে হিন্দুত্ববাদ উত্থান ঘটে এবং পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের মানুষের কাছে বঙ্গভঙ্গের প্রশ্ন ছিল শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং বৈষম্য দূরীকরণের সম্ভাবনার বিষয়।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, বঙ্গভঙ্গ রদ না হলে চল্লিশের দশকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান সম্ভব হত। তবে হিন্দুত্ববাদীদের বাধার কারণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়।
- 📌 জেডিপির ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত বলেছেন, বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলায় রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপ নেয় এবং ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার জেডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নাঈম আহমাদ বলেছেন, বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে তাদের রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরলেও, বঙ্গভঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বা দলীয় পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকায় ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি উদাসীনতার পরিচয় পেয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গভঙ্গ বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আত্মপরিচয় ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
নাঈম আহমাদ বলেন, ‘১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে শুধু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আসামকে নিয়ে গঠিত নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন এবং ঢাকাকে রাজধানী করার মাধ্যমে অঞ্চলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছিল।’
বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিন কংগ্রেস ও বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা শোক পালন, রাখীবন্ধন, উপবাস ও কর্মবিরতির মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের এই ধারা থেকেই পরবর্তীকালে হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটে। তবে পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের মানুষের কাছে বঙ্গভঙ্গের প্রশ্ন ছিল শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং বৈষম্য দূরীকরণ ও ভাগ্যের উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়।’
"বঙ্গভঙ্গ রদের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাকে প্রভাবিত করেছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মধ্য দিয়ে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হয়। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বৈষম্য, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এই ধারাবাহিকতায় বঙ্গভঙ্গকে পূর্ববাংলার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জেডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাঈম আহমাদ (জেডিপির আহ্বায়ক), ইমরান হোসেন রাহাত (জেডিপির ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২১তম বঙ্গভঙ্গ দিবস, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!