📌 বিএনপির উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি অনেক পুরনো। তিনি জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ১৯৮১ সাল থেকে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। শাওন সাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন
বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়, এটি অনেক পুরোনো। তিনি বলেন, অতীতেও দলের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান শাওন সাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিএনপির উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়, এটি অনেক পুরোনো
- 📌 প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রধান বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সংসদে এই কথা বলা হয়েছে
- 📌 গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, নেতাকর্মীদের আরো বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন
- 📌 একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে অপরাধীর খাতায় নাম লিখে দেয়া হয়েছে
- 📌 ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের আগে জিয়াউর রহমান আগাছা পরিষ্কার করার কথা বলেছিলেন
- 📌 ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময় ছাত্রদলের সভাপতি ও মন্ত্রীর ছেলেকে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হয়েছিল
- 📌 শাওন সাদিকের ওপর হামলা সংবাদমাধ্যমের কাছে ছোট ঘটনা হলেও জাতীয়তাবাদীদের কাছে বড় ঘটনা
📰 বিস্তারিত
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, অতীতেও দলের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান শাওন সাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
আলাল বলেন, ‘বিএনপি দেশ পরিচালনার নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রধান বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক, জাতীয় সংসদে দলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে বৈঠক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বলা হয়েছে।’ তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম যা খুশি লিখতে পারে এবং সমালোচকেরা যা খুশি বলতে পারেন। তাই নেতাকর্মীদের আরো বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
আলাল বলেন, ‘এই সতর্কতা অবলম্বন করতে না পারলে বিএনপিতে থাকা যাবে না এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এরপরও কেউ উদ্ধত আচরণ করে মানুষের মনে কষ্ট দিলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, যিনি বিএনপির একজন নেত্রী হিসেবে জীবনে অনেক ত্যাগ করেছেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং অপরাধীর খাতায় তার নাম লিখে দেয়া হয়েছে।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের আগে ঢাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় দলের ভেতরের দুর্নীতিবাজ ও আগাছাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তবে সেই কাজ করার আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছিল। আলাল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, আমি ধান লাগিয়েছি ধানের গোড়া যখন নরম ছিল তখন কিছু আগাছা জন্ম নিয়েছে। ধানের গোড়া এখন শক্ত আমি সেই আগাছা পরিষ্কার করতে চাই।’
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘সে সময় বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল। সে সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন মন্ত্রীর ছেলে কুষ্টিয়া যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও ঠিকাদারি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পর তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তার বাবাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কৃষকের সার নিয়ে সার কেলেঙ্কারির ঘটনায় চট্টগ্রামের আরেকজন মন্ত্রীকেও মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।’
আলাল আরো বলেন, ‘বিএনপির অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এই ধারা নতুন নয়। এটি অনেক পুরোনো। বর্তমানে দল যখন বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তখন কেউ কেউ মিথ্যা প্রচারণা ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়ে মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।’
শাওন সাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গে আলাল বলেন, ‘ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের কাছে ছোট ঘটনা হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে এটি বড় ঘটনা। ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপির সামনে থেকে যারা ছিলেন, তারা হামলা সহ্য করেছেন এবং কারাভোগ করেছেন। সাদিকের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে।’
"দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়, এটি অনেক পুরোনো। অতীতেও দলের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় প্রেস ক্লাব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শাওন সাদিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ অক্টোবর, ৩০ মে, ১৭ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!