📌 নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘের সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬(১)(গ) অনুমোদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথার কারণে চার দশক ধরে এই ধারাগুলো কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব হলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতির অভাবই মূল সমস্যা
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘের সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬(১)(গ) অনুমোদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে, যারা এখন পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দুই ধারায় নিজেদের ‘সংরক্ষণ’ বহাল রেখেছে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিডও সনদে অনুস্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত অনুচ্ছেদ ২ এবং ১৬(১)(গ) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬(১)(গ) অনুমোদন করেনি
- 📌 বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডও সনদে অনুস্বাক্ষর করলেও চার দশক ধরে এই দুই ধারায় সংরক্ষণ বহাল রেখেছে
- 📌 অনুচ্ছেদ ২ নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নের অঙ্গীকার নিশ্চিত করে
- 📌 অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে
- 📌 ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথার কারণে বাংলাদেশে পারিবারিক আইন ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত হয়নি
- 📌 বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, সমস্যাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মানসিকতার
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইফফাত আরা গিয়াস বলেন, অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) পূর্ণাঙ্গভাবে মানতে বিদ্যমান লৈঙ্গিক বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইনের সংস্কার প্রয়োজন
- 📌 তিউনিসিয়া, মরক্কো ও তুরস্কের মতো মুসলিমপ্রধান দেশগুলো নিজস্ব পারিবারিক আইনের সংস্কারের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করেছে
📰 বিস্তারিত
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘের সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬(১)(গ) অনুমোদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে, যারা এখন পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দুই ধারায় নিজেদের ‘সংরক্ষণ’ বহাল রেখেছে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিডও সনদে অনুস্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত অনুচ্ছেদ ২ এবং ১৬(১)(গ) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে পারেনি।
নারী অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, অনুচ্ছেদ ২ মূলত নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপে রাষ্ট্রীয়ভাবে নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার নিশ্চিত করে। আর অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথার কারণে দীর্ঘ চার দশক ধরে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়নি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম স্পষ্টভাবে জানান, সমস্যাটি কৌশলগত নারী আন্দোলনের নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক মানসিকতার। তিনি বলেন, ‘কৌশলগতভাবে আমরা পিছিয়ে নেই। এটা বাস্তবতা যে সামাজিক মানসিকতা, সামাজিক পটভূমি, সামাজিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট—এই জায়গাগুলোতে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি শতভাগ অনুকূলে না থাকায় এই অবস্থা হচ্ছে।’
‘নারী-পুরুষের সম্পত্তিতে সম-অধিকার নিশ্চিত হলে নারীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হলে নারীর ব্যক্তিগত জায়গায়ও অধিকার সংরক্ষিত হবে।’ — ডা. ফওজিয়া মোসলেম
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইফফাত আরা গিয়াস জানান, অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নিতে হলে শুধু একটি আইন সংশোধন করলে চলবে না। বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান লৈঙ্গিকভিত্তিক বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। তালাকের অধিকার, বৈবাহিক সম্পত্তিতে নারীর সমতা এবং সন্তানের অভিভাবকত্বে পিতা-মাতার সমান আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্র ধর্মীয় কাঠামো বজায় রেখেও লৈঙ্গিকসমতা-সংগত বিধিবদ্ধ সংস্কার করতে পারে। তবে অনুচ্ছেদ ২-এর পূর্ণ রূপায়ণ রাষ্ট্রকে নারীর অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলবে। জাতিসংঘ সিডও কমিটি বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, আর্টিকেল ২ ও ১৬-তে বাংলাদেশ যে সংরক্ষণ বজায় রেখেছে, তা সিডও সনদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ব্যারিস্টার ইফফাত আরা গিয়াস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!