📌 বরিশালের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে 'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করা হয়। কর্মসূচিতে ঠিকাদারদের হামলায় বাধা দেওয়া হয় এবং ব্যানার কেড়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতির ও কমিশন নেওয়ার
বরিশালের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে এই কর্মসূচি চলাকালে ঠিকাদারদের হামলায় মানববন্ধন পণ্ড করে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে 'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করা হয়
- 📌 মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, শহিদুল ইসলাম সব ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেন এবং রাত পর্যন্ত অফিসে কমিশন ভাগবাটোয়ারা করেন
- 📌 ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার জানান, তিনি মানববন্ধনে বাধা দেননি, বরং ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে কারণ জানতে চেয়েছিলেন
- 📌 শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মেসেজ পাঠানোর পর ফোন ধরেননি
- 📌 মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সোহেল খান, ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতি বেল্লাল হোসেনসহ প্রমুখ
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে 'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন। তবে কর্মসূচির একপর্যায়ে ঠিকাদারদের হামলায় বাধা দেওয়া হয় এবং মানববন্ধন পণ্ড করে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিবের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'গুপ্ত মিছিলেও' তিনি অর্থায়ন করেছেন। তিনি অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ মোমেন সিকদারকে দিয়ে করান এবং সব ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী তন্ময় এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাধা দিয়ে মোমেন সিকদার চিৎকার করে বলছেন, 'এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না'। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান।
মোমেন সিকদার জানান, তিনি শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে যাওয়ার সময় ব্যানার নিয়ে কিছু লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি কেবল কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তিনি মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি টেক্সট করে পরিচয় জানতে চান। তবে মেসেজে পরিচয় পাঠানোর পর তিনি আর ফোন ধরেননি। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন, তা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন বরিশালের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম অধিকাংশ প্রকৌশলীকে নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সিলেটে প্রমোদভ্রমণে যান। ফলে ওই সময় অফিস ফাঁকা থাকার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। সে সময় ফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁর অশোভন আচরণের একটি অডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
"তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'গুপ্ত মিছিলেও' তিনি অর্থায়ন করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহিদুল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী), রাইদুল ইসলাম সাকিব (জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক), মোমেন সিকদার (ঠিকাদার ও যুবদল নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ নম্বর সদস্য, ১০ নম্বর ওয়ার্ড, ৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!