📌 বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশকদের বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয় এবং বইয়ের নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলা হয়। রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে সরকারের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বাংলাদেশে বই নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস দীর্ঘ, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণের নতুন ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশকদের বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে এবং বইয়ের নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় সরকারের নীরবতা এবং আইনের রক্ষকদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের বিরুদ্ধে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাবাজারের শোরুমে আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশকদের বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয় এবং বইয়ের নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলা হয়।
- 📌 ২০১৪ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছিল।
- 📌 বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ চার শতাধিক বই পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
- 📌 ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় প্রকাশক প্রতিষ্ঠান দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয় এবং শোরুমের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- 📌 বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে, কিন্তু বইটির গুরুত্ব ও ইতিহাসের সুরকি হিসেবে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে বই নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ব্রিটিশ শাসনামলে কাজী নজরুল ইসলামের বিষের বাঁশী ও ভাঙার গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও বিভিন্ন সময়ে লেখক-কবিদের বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ চার শতাধিক বই পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
স্পষ্টতই, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে। বইটি ইতিহাসের সুরকি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, বইটির প্রকাশনা বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বাংলাবাজারের শোরুমে প্রকাশক প্রতিষ্ঠান দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয় এবং শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে প্রকাশক প্রতিষ্ঠান দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড জানিয়েছে, আক্রমণাত্মক আচরণকারী ব্যক্তিরা বইটিকে নিষিদ্ধ বই বলে দাবি করে বিক্রয় বন্ধ করার কথা বলেন। একপর্যায়ে বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করা হয় এবং পরে ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
"বাংলাদেশে সত্যিই কি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে? বাংলাদেশে সত্যিই কি শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মানুষের পদচারণ ছিল? অসমাপ্ত আত্মজীবনী শুধু বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেই নয়, সারা বিশ্বের গবেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাবাজার, ঢাকা; বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশকদের বিক্রয়কর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ সেপ্টেম্বর, চার শতাধিক বই, ১৮ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!