📌 বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির আসনে বসেননি—এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা সত্য নয়। প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ আসনে বসেছিলেন
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছিলেন—এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দাবির সত্যতা যাচাই করে ‘আজকের পত্রিকা’ ফ্যাক্টচেক টিম জানিয়েছে, প্রটোকল অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর ‘Channel 32 News’ ফেসবুক পেজে ছড়ানো দাবি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছিলেন। পোস্টে ১১ হাজার রিয়েকশন, ১ হাজার ৫০০ কমেন্ট ও ৩ হাজার শেয়ার হয়েছে।
- 📌 দাবির ভিত্তি ছিল বঙ্গভবনে সাক্ষাতকালীন ছবিতে রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা থাকা ও প্রধানমন্ত্রীর আসনের পেছনে বাংলাদেশের পতাকা থাকা।
- 📌 বঙ্গভবনের প্রটোকল অনুসারে, রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে বাংলাদেশের পতাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা থাকা স্বাভাবিক।
- 📌 সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের ও শেখ হাসিনার বৈঠকেও একই প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল।
- 📌 দাবি করা হচ্ছে, নাটোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিনের ঘরবাড়িতে জামায়াত-শিবিরের পাকিস্তানি বাহিনী আগুন দিয়েছে—এই ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
‘Channel 32 News’ নামের ফেসবুক পেজে ২৯ সেপ্টেম্বর একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছিলেন। পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “প্রটোকলের একি বেহাল দশা! কে প্রধানমন্ত্রী আর কে রাষ্ট্রপতি—বসবার আগে এতটুকু খেয়াল করারও ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান নেই!” দাবির ভিত্তি ছিল বঙ্গভবনে সাক্ষাতকালীন ছবিতে রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা থাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর আসনের পেছনে বাংলাদেশের পতাকা থাকা। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই দৃশ্যকে তীব্র হাস্যরস ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
দাবির সত্যতা যাচাই করতে ‘আজকের পত্রিকা’ ফ্যাক্টচেক টিম বঙ্গভবনের পূর্ববর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের অফিসিয়াল ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে। জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’তে প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে বাংলাদেশের পতাকা এবং সেনাপ্রধানের আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা ছিল। একই প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকেও। শেখ হাসিনার আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা এবং রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে ছিল বাংলাদেশের পতাকা।
বঙ্গভবনের প্রটোকল অনুসারে, রাষ্ট্রপতির আসনের পেছনে বাংলাদেশের পতাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর আসনের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা পতাকা থাকা স্বাভাবিক। এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত সরকারি প্রটোকল চর্চা। সৌজন্য সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
"প্রটোকলের একি বেহাল দশা! কে প্রধানমন্ত্রী আর কে রাষ্ট্রপতি—বসবার আগে এতটুকু খেয়াল করারও ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান নেই!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বঙ্গভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, শেখ হাসিনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হাজার রিয়েকশন, ১ হাজার ৫০০ কমেন্ট, ৩ হাজার শেয়ার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!