📌 বিশিষ্ট মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মার্ক্সবাদকে গুরুবাক্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিষ্ঠার বিভ্রান্তি বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেন। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি পরিণত বয়সে মৃত্যুবরণ করেন
বিশিষ্ট মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মার্ক্সবাদকে কখনোই শুধুমাত্র তাত্ত্বিক গুরুবাক্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি মার্ক্সবাদকে জীবন্ত ও যুগোপযোগী কর্তব্যকর্মের পথসূচি হিসেবে ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করেছিলেন। লেনিনের উদ্ধৃতির মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মার্ক্সবাদকে একপেশে ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা প্রাণহীন হয়ে পড়ে। বদরুদ্দীন উমর এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অনেক মার্ক্সবাদী নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লেনিনের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, মার্ক্সবাদকে বিকৃত ও প্রাণহীন করার ফলে এর সজীব আত্মা হারিয়ে যায়, বিশেষত দ্বন্দ্বতত্ত্ব ও ইতিহাসের আনুপূর্বিক বিকাশের তত্ত্বকে উপেক্ষা করা হয়।
- 📌 বদরুদ্দীন উমর 'সাম্প্রদায়িকতা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিষ্ঠার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধারণা বিভ্রান্তিমূলক এবং রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির উৎপত্তি ঘটায়।
- 📌 তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কলাকৈবল্যবাদ শিল্পী ও সাহিত্যিকদের সমাজের সাথে সংযোগ ছিন্ন করে, ফলে মানবিক সমস্যা থেকে তাদের দূরে রাখে।
- 📌 বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় প্রতিক্রিয়াবাদী উপায়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়, যা শাসক শ্রেণী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদদের মধ্যে প্রতিবাদ ছাড়াই চলমান।
- 📌 বদরুদ্দীন উমর বলেছিলেন, সামাজিক বিপ্লব ছাড়া বর্তমান অবস্থা থেকে বেরোনো সম্ভব নয় এবং সেই বিপ্লবের আশাবাদ রাখা উচিত।
- 📌 ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বদরুদ্দীন উমর পরিণত বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
📰 বিস্তারিত
বিশিষ্ট মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মার্ক্সবাদকে কখনোই শুধুমাত্র তাত্ত্বিক গুরুবাক্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি লেনিনের উদ্ধৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, মার্ক্সবাদকে বিকৃত ও প্রাণহীন করার ফলে এর সজীব আত্মা হারিয়ে যায়। বিশেষত দ্বন্দ্বতত্ত্ব ও ইতিহাসের আনুপূর্বিক বিকাশের তত্ত্বকে উপেক্ষা করা হলে মার্ক্সবাদ একপেশে ও বিকৃত হয়ে পড়ে। বদরুদ্দীন উমর এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অনেক মার্ক্সবাদী নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করেছেন।
বদরুদ্দীন উমর 'সাম্প্রদায়িকতা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিষ্ঠার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধারণা বিভ্রান্তিমূলক। তিনি বলেছেন, এই বিভ্রান্তি বহুলাংশে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির উৎপত্তি ঘটায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মুসলমান বা হিন্দুদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখতে সমর্থ হওয়ার অক্ষমতা বাংলাদেশের লোকদের মধ্যে স্বাভাবিক মনে হয়। তিনি এই অবস্থার কারণ হিসেবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণকে দায়ী করেছেন।
বদরুদ্দীন উমর শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কলাকৈবল্যবাদ শিল্পী ও সাহিত্যিকদের সমাজের সাথে সংযোগ ছিন্ন করে। তিনি বলেছিলেন, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা সমাজের মধ্যে বসবাস করলেও তাদের সাধনা ও সৃষ্টি সমাজের প্রয়োজনীয় সংযোগ ছাড়াই হয়। তিনি এই অবস্থাকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখেছিলেন।
বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় প্রতিক্রিয়াবাদী উপায়ে ইতিহাসকে বিকৃত করার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসকে প্রতিক্রিয়ার কাজে ব্যবহার করার উপায় হলো ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা এবং জনগণকে অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী এই দুইভাবেই ইতিহাসকে প্রতিক্রিয়ার খেদমতে ব্যবহার করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ বা আলোড়ন দেখা যায়নি বলে তিনি হতাশ ছিলেন।
"একটা কথা শুধু বলা যেতে পারে যে পরিবর্তন না হলে বর্তমান অবস্থা থেকে বেরোনো যাবে না। একটা সামাজিক বিপ্লব ছাড়া এর থেকে বেরোনো যাবে না...আমি শুধু এটাই বলতে পারি যে সেই বিপ্লব হতেই হবে; এই আশাবাদ তো আমাদের রাখতেই হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বদরুদ্দীন উমর, মার্ক্স, লেনিন, এঙ্গেল্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!