📌 আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাড্ডায় হত্যার অভিযোগে প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রমাণের অভাব থাকায় আইনজীবীরা অব্যাহতির দাবি করছেন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রমাণহীন অভিযোগের নতুন উদাহরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলা। বিখ্যাত অভিনেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নূরকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাড্ডায় নিহত প্রাইভেটকারচালক ইমদাদুল হককে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। তবে ২৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব থাকায় আইনজীবীরা মামলার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাড্ডায় নিহত প্রাইভেটকারচালক ইমদাদুল হককে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আসাদুজ্জামান নূরকে আসামি করা হয়েছে, কিন্তু অভিযোগপত্রে কোনো প্রমাণের অভাব রয়েছে।
- 📌 অভিযোগপত্রে ২৯ জন আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কারা আসাদুজ্জামান নূরের অনুসারী ছিলেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
- 📌 নূর ঢাকার সংসদ সদস্য ছিলেন না — তিনি নীলফামারী থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেখানে ঘটনাস্থল থেকে দূরত্বের কারণে তাঁর অনুসারীদের উপস্থিতির সম্ভাবনা নগণ্য।
- 📌 অভিযোগপত্রে ৬টি ভিডিও ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই আসাদুজ্জামান নূরের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- 📌 ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোতে রাজনৈতিক পরিচয়ই মূল নির্ধারক ভূমিকা পালন করছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রমাণহীন অভিযোগের নতুন উদাহরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলা। বিখ্যাত অভিনেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নূরকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাড্ডায় নিহত প্রাইভেটকারচালক ইমদাদুল হককে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। তবে ২৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব থাকায় আইনজীবীরা মামলার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন।
সুপ্রভা তাসনিম বিডিনিউজে পড়েন যে তাঁর বাবা আসাদুজ্জামান নূরকে ‘হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার’ অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। সুপ্রভা জানতেন না যে তাঁর বাবা কোনো মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু এজাহারেই নয়, অভিযোগপত্রেও তাঁর বাবার নাম রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাড্ডায় নিহত ইমদাদুল হককে হত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগপত্র আদালতে জমা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের আসামি করা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা পেয়েছে। এরপরের বিষয় আদালত দেখবেন’। তবে অভিযোগপত্রে এমন কোনো প্রমাণ নেই, যার ভিত্তিতে নূরকে আসামি করা যায়। এখানে রাজনীতিই যে নির্ধারক ভূমিকা রেখেছে, সেই সিদ্ধান্তে না পৌঁছে উপায় নেই।
অভিযোগপত্রে নূরের বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘তাঁর অনুসারীরা অত্র মামলার ঘটনার দিনে কোটা সংস্কার ছাত্রদের মিছিলে আক্রমন করে অত্র মামলার অপরাধ ঘটায়’। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে যে ২৯ জন আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কারা নূরের অনুসারী ছিলেন, তা বলা হয়নি। নূর ঢাকার সংসদ সদস্য ছিলেন না। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নীলফামারী থেকে। রাজধানী থেকে সে জেলায় গাড়িতে যেতে প্রায় সাত ঘণ্টা লাগে।
অভিযোগপত্রে যে অর্থে তাঁর ‘অনুসারীদের’ কথা বলা হয়েছে, সে অর্থে তাঁর অনুসারীরা থাকলে তাঁদের নীলফামারীতেই থাকার কথা। অন্যদিকে বাড্ডার মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২৯ জন আওয়ামী লীগ কর্মীর অধিকাংশই বাড্ডা অথবা ঢাকার আশপাশের ওয়ার্ডগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। উল্লেখ্য, নূরের নির্বাচনী এলাকা নীলফামারীতে আন্দোলন চলাকালে কেউ নিহত হননি। এ ছাড়া, নূর কীভাবে কাউকে হত্যায় ‘প্ররোচনা’ দিয়েছেন, সে বিষয়েও অভিযোগপত্রে কোনো ব্যাখ্যা নেই।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ৬টি ভিডিওর মধ্যে আছে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বক্তব্য; আর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বক্তৃতা। এসব ভিডিওর কোনোটিই নূরের দেওয়া বক্তব্যের নয়। কোনো ভিডিওতে তাঁকে দেখা যায়নি, তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়নি।
"অভিযোগপত্রে যেসব সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা কাটিংয়ের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গেও নূরের কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অন্য কোনো প্রমাণেও তাঁকে ঘটনাস্থলের সঙ্গে, সেখানে উপস্থিত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের সঙ্গে, গুলিবর্ষণের সঙ্গে কিংবা ওই দিন ঘটে যাওয়া অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাড্ডা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুজ্জামান নূর, ইমদাদুল হক, সুপ্রভা তাসনিম, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাদ্দাম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৪ সালের ২০ জুলাই, ২৭ পৃষ্ঠা, ২৯ জন কর্মী, ৬টি ভিডিও
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!