📌 ভারতের বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) ১৯৯০ সালে গঠিত হয়। এটি সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন হিসেবে নকশাল আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে আইসা জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে
ভারতের বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)। সংগঠনটির জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাও সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়ে উঠেছেন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে ককরোচ জনতা পার্টির পাশাপাশি আইসাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইসা ১৯৯০ সালে গঠিত হয়, যা ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন ধারার পুনর্গঠনের ফলস্বরূপ। এটি সিপিআই(এমএল) লিবারেশন দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠে।
- 📌 সংগঠনটির রাজনৈতিক শিকড় যুক্ত নকশাল আন্দোলনের সাথে, যা ১৯৬০-এর দশকে চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের নেতৃত্বে শুরু হয়।
- 📌 আইসা সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদ ও ডানপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, ধর্ম ও রাজনীতির পৃথকীকরণের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- 📌 সংগঠনটি জেএনইউসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে। ২০০৩ সালের পর থেকে ১১ জন ছাত্র সংসদ সভাপতি আইসা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
- 📌 আইসা সামাজিক ন্যায়বিচার ও হিন্দুত্ববিরোধী রাজনীতির সমর্থনে দাঁড়ায়, বিদেশি নির্ভরতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
📰 বিস্তারিত
ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। ১৯২৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) গঠিত হওয়ার পর ১৯৩৬ সালে এর ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) গড়ে ওঠে। ১৯৬৪ সালে সিপিআই ভেঙে সিপিআই(এম) গঠিত হলে ১৯৭০ সালে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) প্রতিষ্ঠিত হয়।
আইসার রাজনৈতিক শিকড় আরও গভীরে যুক্ত নকশাল আন্দোলনের সাথে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়িতে চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের নেতৃত্বে সিপিআই(এম)-এর বিদ্রোহী কর্মীরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথে এগিয়ে যায়। ১৯৬৯ সালে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে সিপিআই(এমএল) গঠিত হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্ধ্র প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭০-এর দশকে নকশাল আন্দোলনে বিভাজন ঘটে, যার মধ্যে চারটি প্রধান ধারা ছিল: দক্ষিণ দেশ, পিপলস ওয়ার গ্রুপ (পিডব্লিউজি), পার্টি ইউনিটি এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। প্রথম তিনটি ধারা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরে এগিয়ে যায়, কিন্তু সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ১৯৭৭ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিত্যাগ করে গণভিত্তিক কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলে।
১৯৯০ সালে প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (পিএসও), অল বেঙ্গল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং অল বিহার স্টুডেন্ট ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের একীভবনের মাধ্যমে আইসা গড়ে ওঠে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনটি দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৯১ সালে জেএনইউ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আইসার প্রথম প্রার্থী ছিলেন গোপাল প্রধান। ১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং মণ্ডল কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষাপটে আইসার প্রভাব বাড়তে সাহায্য করে।
আইসা নিজেকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা শিক্ষার্থীবিরোধী ও জনবিরোধী ডানপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। সংগঠনটি ভারতের সামাজিক পশ্চাৎপদতা, বিদেশি নির্ভরতা, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখে এবং রাজনীতিতে ধর্মের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আইসা প্রচলিত ‘সর্বধর্ম সমভাব’-এর পরিবর্তে ‘সর্বধর্ম বর্জন’ বা ধর্ম ও রাজনীতির সম্পূর্ণ পৃথকীকরণের ধারণাকে গুরুত্ব দেয়।
"আমরা শিক্ষার্থীবিরোধী ও জনবিরোধী ডানপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। একই সঙ্গে বামপন্থী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভেতরের ‘সুবিধাবাদী’ প্রবণতারও সমালোচনা করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), উত্তর ভারত, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অন্ধ্র প্রদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নেহা বোরাও, চারু মজুমদার, কানু সান্যাল, জ্ঞানেশ কুমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন ছাত্র সংসদ সভাপতি (জেএনইউতে আইসা থেকে নির্বাচিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!