📌 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এআই ও রোবোটিকসের যুগেও রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি করছেন। তিনি বলেছেন, নারীদের ক্ষমতায়নই বাল্যবিবাহ রোধের মূল উপায়। ইউনিসেফ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির যৌথ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন তিনি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, এআই ও রোবোটিকসের যুগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের আইনি বয়স কমানোর যুক্তি দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান যুগে যখন বিশ্বে প্রযুক্তি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, তবুও দেশের রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েদের বিয়ের বয়স কত কমিয়ে আনতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি করছেন, অথচ এআই ও রোবোটিকসের যুগে বিশ্বে প্রযুক্তি সবকিছু চালিত করছে
- 📌 তিনি বলেন, আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নারীদের ক্ষমতায়নই বাল্যবিবাহ রোধের মূল উপায়। ৭০-৮০ দশকে মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়ার পিছনে ছিল অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
- 📌 ১৭ হাজার কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের আওতায়, যাতে তারা কর্মসংস্থান পেতে পারে
- 📌 প্রকল্পে ৪২ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ২ জনকে প্রতীকী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার বনানীর শেরাটন হোটেলে ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘এখন এমন বড় বড় রাজনৈতিক দল আছে, যাদের নেতারা দিনরাত যুক্তি দেখাচ্ছেন যে মেয়েদের বিয়ের বয়স কত কমিয়ে আনতে হবে। অথচ এআই ও রোবোটিকসের যুগে বিশ্বে প্রযুক্তি সবকিছু চালিত করছে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক আলোচনা হচ্ছে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর বিষয়ে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নারীদের ক্ষমতায়নই বাল্যবিবাহ রোধের মূল ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, ৭০-৮০ দশকে মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়ার পিছনে ছিল অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। নারীদের অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে সমাজ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে নারীরা নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বিয়ে করার বিষয়ে। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে সাহায্য করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৭ হাজার কিশোরীর জন্য উন্নত ভবিষ্যতের পথ সুগম হয়েছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিয়োগকর্তা, সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সংযুক্ত হতে পারবে। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত মেয়েদের বাস্তবমুখী দক্ষতা তৈরিতে ইউনিসেফ, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) যৌথভাবে কাজ করেছে।
কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণীদের দক্ষতা ও সম্ভাবনায় বিনিয়োগের প্রতিফলন। তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্যেই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় ৪২ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনকে প্রতীকী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে, বাকি ৪০ জন প্রশিক্ষককে সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
"আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নারীদের ক্ষমতায়নই বাল্যবিবাহ রোধের মূল ভিত্তি। নারীদের অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে সমাজ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে নারীরা নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বিয়ে করার বিষয়ে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বনানী, শেরাটন হোটেল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, জিলিয়ান মেলসপ, জিহুন কিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ হাজার কিশোরী, ৪২ জন মাস্টার ট্রেইনার, ৪০ জন প্রশিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!