📌 জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৭ নভেম্বর বিপ্লবের চেতনায় দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একনায়কতন্ত্র ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন এবং বর্তমান সরকারের কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকার আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ৭ নভেম্বর বিপ্লবের চেতনায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই দিবসের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ নভেম্বর বিপ্লবের চেতনা: অন্যায়-অবিচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
- 📌 ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 ১৩৩টি অধ্যাদেশ থেকে ২০টি বাতিলের সিদ্ধান্তকে কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছেন শফিকুর রহমান।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তা যুবসমাজের প্রতি অবিচার হবে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি।
- 📌 সাত দফা দাবি জনগণের দাবি, ফ্যাসিবাদ কোনো দলের একক সম্পত্তি নয় বলে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লবের পেছনে ছিল একদলীয় শাসন ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনমনের ক্ষোভ।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, বিরোধী মত দমন, দুর্নীতি, লুটপাট ও বিনা বিচারে হত্যার মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন এবং সাধারণ জনগণ তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কৃতিত্বের লড়াই না করে যার যেখানে অবদান, তাকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি হতে পারে না।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা যুবসমাজের প্রতি অবিচার হবে।’ তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।’
"৭ নভেম্বর বিপ্লবের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। জনগণের মনের ভাষা বুঝে দেশ পরিচালনা করতে হবে। যারা জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকার উপেক্ষা করবেন, ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, আল-ফালাহ মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ নভেম্বর, ৬ নভেম্বর, ২৫ জানুয়ারি, ১৩৩টি অধ্যাদেশ, ২০টি বাতিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!