📌 ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পর জাসদের কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানের সমর্থনেই জাসদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা শেষ হয়
১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত বাঁক নিয়ে আসে। এই মাসে শুরু হয় এক অভ্যুত্থান, শেষ হয় আরেকটি — কিন্তু দুটিই সফল হয়নি। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এরপর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কোনো সরকারের কার্যকর কর্তৃত্ব ছিল না। এই সময়ে জাসদের নেতা কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং জাসদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়, ফলে দেশে সরকারের কার্যকর কর্তৃত্ব ছিল না
- 📌 কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে জাসদ পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে, কিন্তু সামরিক বাহিনীর জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছাড়া তাদের কোনো শক্তি ছিল না
- 📌 ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নির্মমভাবে নিহত হন এবং কর্নেল তাহের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে পড়ে যান
- 📌 জাসদের দাবি সত্ত্বেও, জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা, যারা তাঁকে গৃহবন্দী করেছিল
- 📌 কর্নেল তাহেরের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের মূল্য চুকাতে গিয়ে জাসদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কোনো সরকারের কার্যকর কর্তৃত্ব ছিল না। এই সময়ে জাসদের নেতা কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ, জাসদের কাছে সামরিক বাহিনীর জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছিল না।
৩ নভেম্বরের পর থেকে খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার কারণে দুজনই সফল হতে পারেননি। জাসদের কর্মীদের আলাপ থেকে জানা যায়, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে এই অভ্যুত্থানে জড়িত হয়নি। বরং কর্নেল তাহেরের একক সিদ্ধান্তেই এই ঘটনা ঘটে। তবে কর্নেল তাহেরের সঙ্গে জাসদের কিছু নেতা ছিলেন।
৭ নভেম্বর সকালে কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু সিরাজুল আলম খান নিরুদ্দেশ ছিলেন। এই অদৃশ্য হওয়া থেকে ধারণা করা হয় সিরাজুল আলম খান তাহেরের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। এইভাবে কর্নেল তাহেরের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের মূল্য চুকাতে গিয়ে জাসদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
"৭ নভেম্বর সকালে কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে যান। ওই সময় জিয়া জাসদের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু সিরাজুল আলম খান নিরুদ্দেশ ছিলেন। তার এই অদৃশ্য হওয়া থেকে ধারণা করা হয় সিরাজুল আলম খান তাহেরের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন এবং এই প্রক্রিয়ায় নিজেকে জড়াতে চাননি।"
৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নির্মমভাবে নিহত হন এবং কর্নেল তাহের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে পড়ে যান। বরং ৭ নভেম্বর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেন। যাঁরা জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন, তাঁরাই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। জাসদের একার পক্ষে জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করা মোটেই সম্ভব ছিল না। যদিও জাসদ দাবি করে তারাই জিয়াকে উদ্ধার করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সেনানিবাস, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খালেদ মোশাররফ, কর্নেল তাহের, জিয়াউর রহমান, সিরাজুল আলম খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর, ৭ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!