📌 সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সেক্সটরশন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ও গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রশ্ন তুলেছে। সংসদ সদস্যদের জন্য নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সেক্সটরশন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ও গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংসদের মর্যাদা ও জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের ঘটনায় সংসদ সদস্যদের জন্য স্পষ্ট নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, তাঁর বিরুদ্ধে কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে সম্পর্ক, তাঁকে সংসদে চাকরি দেওয়া ও তাঁর বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদানের প্রলোভনসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দলীয় তদন্তে বহিষ্কৃত ও গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি।
- 📌 টিআইবি বলেছে, মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও তাঁর আগের যৌন ব্ল্যাকমেলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
- 📌 সংসদ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়ে টিআইবি বলেছে, ২০১০ সালে প্রণীত ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট বিল’ সংসদে পাস হয়নি।
- 📌 সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন। তবে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখনো কোনো ফৌজদারি দায় প্রমাণিত হয়নি।
- 📌 টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সংসদ সদস্যদের নৈতিকতা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
টিআইবি আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা সংসদের মর্যাদার প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেক্সটরশনসহ নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা অন্য সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশ্ন তৈরি করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তবে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের জন্য মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তির জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ধারাবাহিক গুরুতর অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন জাতীয় সংসদের মর্যাদার জন্য উদ্বেগের বিষয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে আদালত। তবে সংসদ সদস্যের নৈতিকতা, ক্ষমতার ব্যবহার ও জনগণের আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের।”
টিআইবি বলেছে, ২০১০ সালে সংসদে উত্থাপিত ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট বিল, ২০১০’ আইনে পরিণত হয়নি। ওই প্রস্তাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রভাব ব্যবহার না করা, স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং নিয়োগ, পদোন্নতি বা বদলিতে সুপারিশ না করার মতো বিধানের কথা ছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবেও সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট অ্যাক্ট’ প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
"সংসদ সদস্যদের নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি তাদের পুরোনো। ২০১০ সালে প্রণীত বিল সংসদে পাস হয়নি। এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা-৪ আসন, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজী নজরুল ইসলাম, ড. ইফতেখারুজ্জামান, কিশোরী মরিয়ম খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আসন নং ৪, সংবিধান অনুচ্ছেদ ৬৬(২)(ঘ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!